মৃত্যু আমার দিকে তাকিয়ে ছিল: মনীষা কৈরালা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:২৭, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৭, নভেম্বর ১০, ২০১৮

‘১০ ডিসেম্বর ২০১২, মৃত্যু আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি মরতে চাইনি। আমি চোখ বন্ধ করে ছিলাম, চোখ মেলে দেখি আমার আকাশ কালো হয়ে আসছে। নিজেকে আশ্বস্ত করলাম, আমাকে এর মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। একসময় জানতে পারলাম আমার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ, কিন্তু এটাও সত্যি যে ৫৬ শতাংশ মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। আমি চোখ বন্ধ করে ভাবছি..।’


ঢাকা লিট ফেস্টের শেষ দিনে আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে হিলড শীর্ষক সেশনে নিজের লেখা বই 'হিলড' থেকে কয়েকটি লাইন দর্শকদের পড়ে শোনান মনীষা কৈরালা। এ সময় তার চোখে পানি এসে পড়ে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায্‌। মনীষা বলেন, ‘আমি জানি না আমার ক্যানসার হওয়ার পর কত সময় পার হয়ে গেছে।। সে সময় আমি জীবনের কঠিন একটি বাস্তবতার মধ্যে ছিলাম। আমি বিষণ্ণ ছিলাম, খুব অস্বস্তি লাগতো, শারীরিকভাবেও বিপর্যস্ত ছিলাম। আমার পাকস্থলী অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে গিয়েছিল। পরীক্ষা করার পর জানতে পারলাম আমার লিড স্টেজে ক্যানসার এবং তা ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরাও আমাকে বলতে চাচ্ছিল না যে আমার ক্যানসার হয়েছে। আমি বিস্ময় নিয়ে চিকিৎসকের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। অনেক পরে আমাকে জানানো হলো আমার জরায়ুর ক্যানসার এবং সেটা কেটে ফেলে দিতে হবে। এটা শোনার পর মনে হলো আমার জীবনের নিঃসঙ্গ রাত শুরু।’


‘আমার বন্ধু, পরিবার সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলো কোথায় আমার অপারেশন করবে। কেউ বলল যুক্তরাষ্ট্র, কেউ ব্যাংকক, কেউ বা মুম্বাই। তবে এর সঙ্গে অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যেটা ছিল আমি কখনও মা হতে পারবো না।’

ক্যানসার চিকিৎসা অনেকটা অনিশ্চয়তার বিষয় উল্লেখ করে মনীষা আরও বলেন, ‘মুম্বইয়ের চিকিৎসকরা যখন বলল এই সার্জারি খুবই কমপ্লিকেটেড, আমার বন্ধু, আত্মীয়, শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার জন্য গেলাম। ক্যানসার চিকিৎসা অনেক অনিশ্চয়তার বিষয়। শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা। এই নিয়ে আমার বইয়ের একটা চ্যাপ্টার আছে, নাম ‘ইন্তেজার।’ ক্যানসার চিকিৎসায় দুই জায়গায় শর্ত থাকে। এক, অপারেশন সফল হতে হবে। দুই, অপারেশন পরবর্তী চিকিৎসা সফল হতে হবে। এর সঙ্গে আছে কেমোথেরাপি। সব চিকিৎসা সফল হওয়ার পর আমি চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি বাঁচবো এখন? ছয় মাসে ক্যানসার নিরাময় হওয়ার পর বলল, তিন বছর পর্যন্ত পুনরায় ক্যানসার বেড়ে ওঠার ৯০ শতাংশ চান্স আছে। এক্ষেত্রে তারা নিশ্চয়তা দিতে পারে নি। আমি অপেক্ষায় ছিলাম, এখনও আছি।’


মনীষা আরও বলেন, ‘আমি কখনও মনে করিনি আমাকে অল্প কিছুদিন বাঁচতে হবে। আমার বিশ্বাস ছিল আমি একদিন পুরোপুরি সুস্থ হবো।’ এসময় তিনি তার লেখা বইয়ের আরও কয়েকটি লাইন তুলে ধরে বলেন, ‘ক্যানসার আমাকে বদলে দিয়েছে। আমি ভেতর থেকে বদলে গিয়েছি। আমার পৃথিবীও বদলে গেছে।’

জীবন ইতিবাচক গল্পের সম্ভার উল্লেখ করে মনীষা বলেন, ‘আমি মনে করি যেকোনও পরিস্থিতি আমাদের শিক্ষা দেয়। আমি ক্যানসারের প্রতি কৃতজ্ঞ, সে আমাকে জীবনের মূল্য শিখিয়েছে। ভীত হয়ে মৃত্যুর জন্য আমি কখনোই প্রস্তুত ছিলাম না। অনেক মানুষের কাছে আমার অনেক আশা ছিল যে তারা এগিয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তবে এমন কিছু হয়নি। আবার কিছু মানুষ আমার জীবনে এসেছে ফেরেশতা হয়ে। এ থেকেই বলতে পারি পৃথিবীতে এখনও ভালো মানুষ আছে। লাইফ ইজ ফুল অব পজেটিভ স্টোরিজ।’

ছবি: নাসিরুল ইসলাম ও সাজ্জাদ হোসেন 

এসও/এনএ/

লাইভ

টপ