কাঠগড়ায় ‘ফেমিনিজম’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫৭, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৬, নভেম্বর ১০, ২০১৮



বাংলা সাহিত্যে নারী বা পুরুষের দ্বারা কোনও ‘নারী চরিত্র’ সৃষ্টি হয়নি— সালমা বাণী এই কথা দিয়েই শুরু করেন ঢাকা লিট ফেস্টের ‘বাংলা সাহিত্য: নারী ও পুরুষ’ শিরোনামের আলোচনা। বাংলা একাডেমিতে মূল ভবনের লনে অনুষ্ঠানটি হয়েছে মধ্যদুপুরে, ঢাকা লিট ফেস্টের তৃতীয় ও শেষ দিন শনিবারে।
আলোচক ছিলেন লেখক শাহনাজ মুন্নী, কবি অদিতি ফাল্গুনী, কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী এবং অধ্যাপক সাদেকা হালিম। প্রাণবন্ত এ আলোচনার সঞ্চালক ছিলেন কবি শামীম রেজা।
অদিতি ফাল্গুনীর সোজাসাপ্টা কথা, আমাদের সমাজ নারীকে লেখক হিসেবে চিহ্নিত করতে চায় না। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নিজেরা সিন্ডিকেট তৈরি করে সাহিত্য রচনা করে, কিন্তু নারীরা কখনও সেই সিন্ডিকেটের অংশ হতে পারেন না। সমাজের জন্যে বা সংসারের চাপে নারী সাহিত্যিকদের আমরা হারিয়ে ফেলি।এ পর্যন্ত বলে অদিতি ফাল্গুনী এ-ও যোগ করেন তার অবস্থান ব্যাখ্যায়— রবীন্দ্রনাথ-রুশোর মতো সাহিত্যিকরাও নারীকে নিপীড়িত হিসেবে বর্ণনা করেন, কেউ নারী নিপীড়নকে শক্ত কলমে তুলে ধরেননি।
সালমা বাণী তার কথা শুরুর প্রথমেই বলেন, ‘আলোচনা হচ্ছে সাহিত্যে নারী-পুরুষ নিয়ে, কিন্তু কোনও পুরুষ আলোচক নেই, শুধু সঞ্চালক শামীম রেজা ছাড়া।
প্রত্যুত্তরে শামীম রেজা বলেন, বাংলা সাহিত্যে নারী সাহিত্যিকের কলমে কীভাবে পুরুষ উঠে এসেছেন এবং নারী সাহিত্যিকের অবস্থান নিয়ে আলোচনার জন্যে এই আয়োজন।
সাদেক হালিমার মতে, অর্থনীতি ব্যবস্থার জন্যে আমরা নারী সাহিত্যিকদের একটা সময় হারিয়ে ফেলি, তাদের নিয়ে আমরা ট্যাবু সৃষ্টি করি। যা ভাঙা যাচ্ছে না ‘ক্যাপিটালিজম’-এর জন্য। ‘ফেমিনিজম’ যতদিন ধরে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হবে ততদিন পর্যন্ত নারীর অধিকার পুঁজিবাদীর দখল থেকে বের হবে না।
সাদেকার আলোচনা ধরে সালমা বাণী বলে, ‘ফেমিনিজম’-এর পরে আসলো ‘পোস্ট-ফেমিনিজম’, সেটা খুব স্বল্প সময় ধরে ছিল। তারপর শুরু হলো ‘ইকুয়ালিজম’। তিনি ইকুয়ালিজমের মধ্যে দিয়ে নারীর মুক্তি বিষয়ে দৃকপাত করেন।
শাহনাজ মুন্নী বলেন, মেরি উইলসটন প্রথম নারীবাদ নিয়ে কথা বলেন, সেই সূত্র ধরে আমাদের দেশেও গত কয়েক শতক ধরে নারীবাদ নিয়ে অনেক সাহিত্য পাওয়া গেলেও এখনও আমাদের সমাজে নারী সাহিত্যিকের সংখ্যা অনেক কম।
শাহনাজ মুন্নীর বক্তব্য হলো— নারীকে ভাবতে হয়, এমন কিছু লিখছেন কিনা যা পরিবারের মানুষ দেখে প্রশ্ন তুলতে পারে।
শাজনাজ মুন্নীর এ কথার রেশ ধরে সালমা বাণী বলেন, হাসান আজিজুল হকের মতো সাহিত্যিক বলেছেন যে নারীদের শব্দ ব্যবহারে সর্তক থাকা উচিত। এই শব্দ ব্যবহারে লিঙ্গ বৈষম্যের জন্যই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেক সাহিত্যিকের বিকাশে নিজস্বতা থাকে না।
তাহলে এই আলোচনার নির্যাস কী?
সাহিত্যের জন্যে নারী ও পুরুষ উভয়েই সমভাবে প্রয়োজনীয়। লিঙ্গ-ধর্ম-অবস্থান নির্বিশেষ সব মানুষের জীবনই ফুটে ওঠে সাহিত্যে। তাই পুরুষতন্ত্র বা নারীবাদ কোনোটাতেই মিলবে না মুক্তির পয়গাম, পৌঁছানো যাবে না লক্ষ্যে। আগের মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে হেলে পড়ছে বিদ্যমান পুরুষশাসিত সমাজ— এমন ইঙ্গিতও এখন স্পষ্ট। কিন্তু তাতেও বদলাবে না কিছু; দরকার নারী ও পুরুষের সহাবস্থান— কী সাহিত্যে, কী সমাজে।

/এইচআই/

লাইভ

টপ