‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের নোবেল পাওয়া উচিত’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:২৮, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩১, নভেম্বর ১০, ২০১৮

ঢাকা লিট ফেস্টের রোহিঙ্গা বিষয়ক ‘রেইপ বাই কমান্ড: দ্য আফটারম্যাথ’ শীর্ষক আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক জিউইন রবিন্সন, এনজিওকর্মী রাজিয়া সুলতানা, ডা. মরিয়ম মোল্লা, মানবাধিকার কর্মী শিরিন হক এবং সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায্‌।


শিরিন হক প্রথমেই রোহিঙ্গা নিয়ে পোস্টার দেখান। পোস্টারে ছবি তুলেছেন সাংবাদিক শহীদুল আলম। সেই ছবিতে একটি রোহিঙ্গা পরিবার ছিল, পরিবারের মেয়েটি ধর্ষিত হয়েছে মায়ানমারের আর্মিদের দ্বারা। জিউইন রবিন্সন রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে আশ্রয় প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি মহৎ কাজ করছে। এতগুলো মানুষকে আশ্রয় দিচ্ছে, বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নোবেল প্রাইজ দেওয়া উচিত।’
ডা. মরিয়াম রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে দিনের বেলায় থাকেন, সেখানের নারীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন। তার মতে, ‘রোহিঙ্গা নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে একদমই সচেতন না। মাত্রাতিরিক্ত রক্ষণশীল জীবনযাপন করার কারণে তারা সাধারন শব্দ সেক্সও উচ্চারণ করে না। তাদের রোহিঙ্গা ভাষায় কোনও ‘সেক্স’ বিষয়ক শব্দ নেই। শব্দ না থাকায় তাদেরকে রেইপ ভিক্টিম কিনা তা জিজ্ঞেসও করা যায় না। তারা ধর্ষণকে বলে ঝুলুম। এভাবেই কঠিন ট্যাবুর মধ্যে তারা বেঁচে আছে।’
রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘তারা ভয় পায় স্বীকার করতে যে তারা ধর্ষিত হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায় তাদের প্রায় বেশিরভাগই হলো ধর্ষণের স্বীকার। এর ফলে তারা এখন সন্ধ্যার পর তাদের তাঁবু থেকে বের হয় না। হয়তো ১০ মিনিট দূরত্বে তাদের টয়লেট, তাও তারা যেতে সাহস করে না।' রোহিঙ্গাদেরকে মানসিক ট্রমা থেকে বের হওয়ার জন্যে অনেক এনজিও কর্মী কাজ করছে।তাদেরকে মানসিক স্বাস্থের জন্য কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা মহিলাদের প্রশিক্ষণের জন্য অনেক কোর্স চালু আছে সেখানে। সেলাই, হাতের কাজ শেখানো হয়। যেন তাদের কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যতটা না মসজিদ বা মক্তবের জন্যে আগ্রহী, তারচেয়ে ঠিক বিপরীত অবস্থান হলো স্কুলে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের মানসিকতা।’
শিরিন হক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্যে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে বাংলাদেশ সরকার। এটা একটি ইতিবাচক ব্যাপার।’ উপস্থিত কানাডিয়ান হাইকমিশনার বলেন, ‘বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনও কথা বলে না। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, এজন্য কানাডিয়ানরাও চায় বাংলাদেশকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হোক।’ সর্বশেষে জিউইন রবিন্সন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দরকার আরও বেশি বেশি তহবিল সংগ্রহ করে বাংলাদেশকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সাহায্যের জন্য দেওয়া।’

/এনএ/

লাইভ

টপ