আগামী সংসদকে রাজাকার মুক্ত করার দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১০, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১২, নভেম্বর ১০, ২০১৮

নাগরিক সংলাপমুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে নির্বাচিত করে আগামী সংসদকে রাজাকার মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১।  ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ও নির্বাচন ২০১৮’ শীর্ষক নাগরিক সংলাপে ফোরামের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

ফোরাম থেকে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী সংসদে সব রাজনৈতিক দল হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের।

শনিবার (১০ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক হারুন হাবীব বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে একটি রাজাকারমুক্ত সংসদ দেখতে চাই। সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দল সবই হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির। এর আগে আমরা রাজাকারদের গাড়িতে পতাকা উড়তে দেখেছি। তা আর দেখতে চাই না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে প্রতিরোধ করতে হবে। ১৯৭৫ সালে যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করেছে; তাদেরই পুনর্গঠিত একটি ফোরাম হচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট। এরা বঙ্গবন্ধুর কথা বলে আসলে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের সংগঠিত করছে। তাই নতুন ভোটারদের কাছে যেতে হবে। তাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলতে হবে। সর্বোচ্চ ঐক্যবদ্ধ হয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে পুনর্নির্বাচিত করতে হবে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন তিনি বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সংলাপ করবেন না। তিনি তার কথা রেখেছেন। তিনি বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সংলাপে বসেননি। তিনি সংলাপ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জোটকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে।’

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর সাংগঠনিক সম্পাদক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আলী শিকদার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পর আমরা যে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ হারিয়ে ফেলেছিলাম, সেটি ফিরে পাওয়ার টার্নিং পয়েন্ট এবারের নির্বাচন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করতে হবে। ’

সাবেক ডাকসু ভিপি অধ্যাপক মাহফুজা খানম বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেছিল। তারপর তার প্রত্যেকটি কাজই ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী। সংবিধানের নানা পরিবর্তন করেছেন তিনি। তারা মূলত নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের কথা ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এ কারণেই তারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের দিনকে জন্মদিন হিসেবে পালন করেছেন। তাই আগামী বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে হলে আসন্ন নির্বাচনে এই সরকারকে ফিরিয়ে আনতে যা করার তাই করতে হবে।’

নির্বাচন কমিশনকে ধিক্কার জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল বলেন, ‘জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি দলের প্রতীক নেওয়ার যে বিশেষ সুযোগ নির্বাচন কমিশন দিয়েছে, সেটা কাদের স্বার্থে দেওয়া হলো? মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির কারও নির্বাচন করার সুযোগ থাকা উচিত না। এটা নিশ্চিত করতে হবে।’

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সারোয়ার আলী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূল বিষয় হলো নির্বাচন। সংবিধানে যে সমাধান দেওয়া আছে, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেভাবে নির্বাচন হয়; সেভাবে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ’

বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী করতেই হবে। আওয়ামী লীগই ঠিক করবে, কারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আর কারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি। ’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিএনপি যতই বাগাড়ম্বর করুক না কেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সমাজের একটি অংশ তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যুক্ত হয়েছে সুশীল সমাজের একটি অংশ। তারা যে নির্বাচনে আসন পাবে না, তা নয়। মূলত তারা নেগেটিভ ভোটের একটি অংশ পাবে।’ তিনি বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন কাদের সিদ্দিকীকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা মনে করি না। তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করি না। তারা যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি সে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। জনগণকে জানাতে হবে তারা আসলে মুক্তিযোদ্ধা নয়।’

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে নাগরিক সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, পিকেএসএফের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী খলীকুজ্জামান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ম. হামিদ, লায়লা হাসান ও নারী নেত্রী রোকেয়া কবির প্রমুখ।

 

/এসজেএ/এনআই/

লাইভ

টপ