ফেক নিউজ: অধিকার, দায়বোধ, প্রতিকার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১৯, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৭, নভেম্বর ১০, ২০১৮

‘ফেক নিউজ’ বর্তমান সময়ের অন্যতম শীর্ষ আলোচনার ইস্যু। ঢাকা লিট ফেস্টের শেষ দিন শনিবার (১০ নভেম্বর) কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে এই ইস্যুতে আলোচনায় বসেন জাফর সোবহান, আফসান চৌধুরী, হুগো রেস্টল ও অ্যানি জাইদি। সেশনটি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা ট্রিবিউনের প্ল্যানিং এডিটর আসিফুল ইসলাম।
পুরো আলোচনায় উঠে আসে বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক বাস্তবতার বিচারে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, সাংবাদিকদের আদর্শ-নৈতিকতা, সংবাদ মাধ্যমের মালিকপক্ষ-সরকার সম্পর্ক, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড মিডিয়া’র অস্তিত্ব ও জনমনে প্রভাবসহ আরও বিভিন্ন প্রসঙ্গ।
ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকতেই হবে।ফেক নিউজ ইস্যুটি এখন বেশ আলোচিত হওয়ার কারণ হলো, এমন সংবাদের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। যা কখনও কখনও নেতিবাচক। মিডিয়া জগতে কোনটি ভুয়া তথ্য (মিসইনফরমেশন) আর কোনটি তথ্যই নয় (ডিসইনফরমেশন) তা জনসাধারণের পক্ষে নির্দিষ্ট করে শনাক্ত করা কঠিন। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেই ফেক নিউজ যেকোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারছে।’
দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাংবাদিক, গবেষক আফসান চৌধুরী বলেন, “ফেক নিউজ কেন হয়? হয় কারণ সমাজে রয়েছে প্রচুর ফেক সম্পাদক, ফেক সাংবাদিক, ফেক রাজনীতিক। সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক বা সম্পাদক হিসেবে তার দায়িত্ব একটি, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তার বদলে যখন এই মানুষগুলো ‘সমাজ রক্ষার’, ‘দেশ রক্ষার’ ব্রত পালন করতে যায় তখনই এমন বিপত্তি ঘটে।”


ভারতে সাংবাদিকতা জগতে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন অ্যানি জাইদি। ভারতের প্রেক্ষাপটে বললেন, ‘সংবাদ মাধ্যমের মালিকপক্ষ কারা খুঁজলেই দেখবেন, বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা রাজনীতিকরাই প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করেন। কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে, সাংবাদিকতার ইথিকসের জায়গা থেকে ‘আমাদের কাজ হলো আমাদের কাজটুকু (বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন) ঠিকমতো করা।’ এই প্রতিশ্রুতি রাখছেন না অনেক সাংবাদিক। গোষ্ঠী স্বার্থ ভিডিও টেম্পারিংয়ের মতো নিকৃষ্ট কাজ করে বেইমানি করছে জাতির সঙ্গে।’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে সম্পাদনা কাজ করেন হুগো রেস্টল। বলেন, “মার্কিন গণমাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবের কথা। পাপারাজ্জিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ার ফলে ফেক নিউজের হার বেড়ে যাচ্ছে।’ আন্ডারগ্রাউন্ড মিডিয়ায় কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীস্বার্থ সিদ্ধির জন্য বিনা পারিশ্রমিকে, বিনা পরিচয়ে ‘ফেক নিউজ’ করতেই থাকছে। কোনও সরকারের পক্ষে আইন করে এই চর্চা থামানো সম্ভব না। এই বিষয়টিও উদ্বেগজনক।”
সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমের বিরোধের কোনও জায়গা নেই বলে একমত প্রকাশ করেন বক্তারা। বরং বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আরও বেশি করে গণমানুষের কাছে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার খুব সুন্দর একটি প্ল্যাটফর্ম। পাঠক হিসেবেও আমাদের কিছু দায়িত্ববোধ আছে। সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা নিরীক্ষা না করেই প্রতিক্রিয়া দেখানোর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান ধ্বনিত হয় সবার কণ্ঠে।

/এনএ/

লাইভ

টপ