শিল্পানুরাগীর চোখে শিল্পের বয়ান ‘টেলস অব অ্যান আর্ট লাভার’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩০, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৫, নভেম্বর ১০, ২০১৮

 

শিল্পের প্রতি অনুরাগ একপ্রকার আসক্তি আর প্রকৃত অনুরাগীর চোখে ধরা পড়েন গুণী শিল্পীরা।
ঢাকা লিট ফেস্টের তৃতীয় এবং শেষ দিন (১০ নভেম্বর) বাংলা একাডেমির ভাস্কর নোভেরা এক্সিবিশন হল সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত ও লেখক মারিও পালমা বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত তার দ্বিতীয় বই ‘টেলস অব অ্যান আর্ট লাভার’ সেশনে নিজের বইয়ের কিছু চমৎকার অংশ পাঠ করে শোনান। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির এবং কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজরুল ইসলাম। সেশনটি সঞ্চালনা করেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়য়ের উপ-উপাচার্য ফখরুল আলম।
পেশায় কূটনীতিক হওয়ায় মারিও পালমা ঘুরে বেড়িয়েছেন নানা দেশ। নিজের গায়ে জড়িয়েছেন নানা সংস্কৃতির চাদর। তাই প্রথাগত দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে শিল্পকে দেখেন তিনি অন্তর্মুখী দৃষ্টি দিয়ে। সেই অন্তর্মুখী দৃষ্টি দিয়ে তিনি আবিষ্কার করেছেন শিল্পী এস এম সুলতানকে। এবং ভেনেজুয়েলার শিল্পী জর্দা নের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছেন সুলতানের। এসব কেবল একজন সত্যিকারের অনুরাগীর পক্ষেই সম্ভব।
‘টেইলস অব অ্যান আর্ট লাভার’ শীর্ষক এই সেশনে আলোচনার সূত্রেই উঠে আসে এক চিরন্তন দ্বন্দ্ব। পালমা দাবি করেন, শিল্পী বা বোদ্ধার গণ্ডির বাইরেও একটি গোষ্ঠী আছে যারা শিল্পের প্রতি সমান অধিকার জ্ঞাপন করেন, আর তারাই শিল্পানুরাগী। পালমা নিজেকে বোদ্ধা দাবি করেন না, কিন্তু শিল্পের আদলে যে সত্য প্রতিস্থাপিত হয় তার প্রকৃত আদল বোঝা একমাত্র প্রকৃত শিল্পপ্রেমীর পক্ষেই সম্ভব। এই মতাদর্শে সায় দেন কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামও। মারিও পালমার ‘টেলস অব অ্যান আর্ট-লাভার’-এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন লেখক। তার মতে, সাহিত্য বা চিত্রকর্ম— শিল্পের মাধ্যম যা-ই হোক না কেন, শিল্পীর মতো বোদ্ধা এবং শিল্পপ্রেমীরাও এর প্রকৃত দর্শন ধারণ করতে সক্ষম, আর এভাবেই শিল্প লাভ করে অমরত্ব।
সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিল্পের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোকপাত করেন খুশি কবির। বইটি তাকে তার সত্তার সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ করে দিয়েছে বলে অকপট স্বীকারোক্তি দেন। বলেন, পুরো বইটি একটা আড্ডার মতো। নিজের সঙ্গে আড্ডার এক চমৎকার সুযোগ পেয়েছি এই বই পাঠে।
সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে এমন কিছু লেখা অসম্ভব। অধ্যাপক ফখরুল আলম বইটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশি শিল্প-সাহিত্যকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মানুষের দর্শন, সত্তা, ইন্দ্রিয়কে আন্দোলিত করে শিল্প, তাই শিল্পের পেছনে ব্যয় করা প্রতিটা মুহূর্ত অনেকটা নিজের সঙ্গে নিজের আড্ডা দেওয়ার মতোই।
এই্ আলাপচারিতার একপর্যায়ে মারিও পালমা বাংলাদেশে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, এ দেশের শিল্পকর্মের সমৃদ্ধ ভান্ডার তাকে মুগ্ধ করেছে। ‘শিল্পকর্মের ভাষা বৈশ্বিক, এ জন্য শিল্পীরাই পারেন সমগ্র বিশ্বকে এক সুতায় গাঁথতে’— পালমার চমকপ্রদ এই উক্তি দিয়েই ইতি টানা হয় অসাধারণ সেশনটি।

 

/এইচআই/

লাইভ

টপ