‘লেখকের চিন্তার হত্যা হয় না’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:৪৭, নভেম্বর ১০, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৫৩, নভেম্বর ১১, ২০১৮

একটি লেখার প্রতিবাদ হতে পারে আরেকটি লেখার মধ্য দিয়ে। জোর করে, আইন দিয়ে লেখা থামিয়ে দিয়ে নয়। মনে রাখতে হবে, লেখকদের গলা বন্ধ করা গেলেও তাদের চিন্তাকে হত্যা করা যায় না, দরকারও নেই। একজন লেখককে পাঠক কিভাবে গ্রহণ করবে সেটা তাদের ওপর ছেড়ে দেওয়াই শ্রেয়।
শনিবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা লিট ফেস্টের শেষ দিনে ভাস্কর নভেরা হলে ‘পেন: লেখকের মুক্তি, লেখকের স্বাধীনতা’ শীর্ষক সেশনে এক আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা ট্রিবিউনের চিফ রিপোর্টার উদিসা ইসলাম। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও লেখক কুমার চক্রবর্তী, মো. আখতার হোসেন, লেখক ও অনুবাদক মুম রহমান, পেন বাংলাদেশের মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দীন।
মুম রহমান বলেন, ‘আমি যদি আপনাকে মনে ধারণ করি, এটা গুলি করে আটকাতে পারবেন না। আপনি আমার বই ছাপাটা বন্ধ করতে পারবেন। আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে পারবেন। আপনি ব্লগারের গলা চেপে ধরতে পারবেন, তাকে চাপাতি দিয়ে কোপাতে পারবেন। কিন্তু চিন্তার হত্যা হয় না।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার দরকার সবারই আছে। কিন্তু সবসময় এটা নিয়েই কথা ওঠে যে লেখকের স্বাধীনতা দরকার। তার মানে আমরা কোনও না কোনও ভাবে বুঝতে পারি, লেখকের স্বাধীনতাটা আমাদের সবার স্বাধীনতাকে প্রতিনিধিত্ব করবে। কারণ একজন লেখক শুধু বর্তমান লেখেন না। তিনি একই সঙ্গে ভবিষ্যতের মানচিত্র তৈরি করে দেন। লেখককে কয়েক টুকরো কাগজ আর পেনসিল দিলেই সে স্বাধীন। আমি মনে করি লেখক যখন লেখেন, তখন সে তার গল্পের মধ্যে ঢুকে যায়।’
এসময় সঞ্চালক উদিসা ইসলাম পেন বাংলাদেশের মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের কাছে সংস্থাটি একজন লেখকের জন্য কতটুকু কথা বলতে পারে জানতে চাইলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেফতার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘একজন লেখক যেকোনও দলের হোক, সে দেশের বিপক্ষে বলুক বা পক্ষে বলুক, কী বলল সেটা বিষয় না। আমরা তার মুক্তি চাই। এটা পেন ইন্টারন্যাশনালের কথা এবং আমরাও সেটা বলছি। মানুষকে বলার সুযোগ দিতে হবে।’
কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘আমি মনে করি লেখার মধ্যে থাকবে আমার ইচ্ছা। একজন লেখক যদি স্বাধীন না হন, তাহলে তিনি কীভাবে লিখবেন? লেখকের চিন্তার স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতার প্রয়োজন আছে। কারণ এতে অন্য চিন্তারও স্বাধীনতা পাওয়া যাবে। লেখা আরেকজনকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে তার চিন্তা দিয়ে। লেখকের প্রতিবাদ হতে পারে লেখার মাধ্যমে। বড়জোর রাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে নিষিদ্ধ করতে পারে, তবে কোনওভাবেই আক্রমণ করতে পারে না।’
আখতার হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতা বিষয়টি আপেক্ষিক। পূর্ণ স্বাধীনতা বলতে আমরা কি কোনদিন কিছু পেয়েছি? কোন সমাজ আছে, কোন রাষ্ট্র আছে যেখানে পরিপূর্ণ স্বাধীনতায় মানুষ যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে, যা ইচ্ছা তাই লিখতে পারবে। সেটা কিন্তু আমরা পারি না। আমাদের বিভিন্ন বেড়াজালের মধ্যে দিয়ে জীবনযাপন করতে হয়। এখন জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার মতো বিষয়গুলো সামনে আসছে। এখন এটার পক্ষে দাঁড়াবো না বিপক্ষে, এটা লেখকের চিন্তা। আমি তো এমন কিছু করতে পারি না যাতে সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। একজনের লেখকের কিছু দায়িত্ব থাকতে হয়। আমাদের চিন্তা চেতনায় স্বাধীনতা থাকলেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় একধরনের বিধি নিষেধ মানতেই হয়। যেহেতু আমরা সামাজিক জীব। আমাদের কোনও না কোনওভাবে একটি অনুশাসনের ভেতর চলতে হয়। যেটি লেখকের চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করে। লেখককে সমাজ কিভাবে গ্রহণ করবে সেটিও একটি বিষয়।’

এসও/এনএ/

লাইভ

টপ