নির্বাচনে গুজব ঠেকাতে যত উদ্যোগ

Send
জামাল উদ্দিন
প্রকাশিত : ০৯:৫০, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৩, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনজাতীয় নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্টের প্রধান কারণ ‘গুজব’ হতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যে কারণে গুজক ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, র‌্যাব, তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবপক্ষই সেটা মনিটরিংয়ের ওপর জোর দিয়েছে। এরইমধ্যে গত সেপ্টেম্বরে গুজব প্রতিরোধ ও অবহিতকরণ সেল গঠন করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়। পুলিশের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মনিটরিং সেল গঠন ছাড়াও পুলিশ এবং র‌্যাব আলাদাভাবে গুজব প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো মনিটরিং করছে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের গুজব প্রতিরোধ ও অবহিতকরণ সেল থেকে এ পর্যন্ত তিনটি বিষয়ে তথ্য বিবরণী দিয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গুজব প্রতিরোধে মূলত কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট হলে তারাও বিষয়টি গুজব প্রতিরোধ সেলকে অবহিত করে থাকে। যে গুজব রাষ্ট্রের শান্তি ও স্থীতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়, নাশকতা, সহিংসতা ও গণবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে সেসব বিষয়গুলোকেই এই প্রতিরোধ সেল প্রাধান্য দিয়ে থাকে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের গুজব প্রতিরোধ ও অবহিতকরণ সেল। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৪ ঘণ্টাই  খোলা রাখা হচ্ছে তথ্য অধিদফতরের নিউজ রুম। ১৮ সেপ্টেম্বর এই গুজব প্রতিরোধ সেল গঠনের পর এ পর্যন্ত তিনটি গুজবের খবর দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়াও এ সেলের তথ্য অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুজব ও অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে।

সেপ্টেম্বরে সেল গঠনের পর ২ ডিসেম্বর পোলিং এজেন্টদের ‘মাথা কেনার’ একটি খবরকে গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে তৃতীয়বারের মতো তথ্য বিবরণী দেয় তথ্য মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক, চেক নং-ক- ৭২১১০১৪, তারিখ ২৫-১১-১৮ এর মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট-এ ২২৫ কোটি টাকা দিয়ে ‘পোলিং এজেন্টদের মাথা কেনা’র খবরটি একটি গুজব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এ খবরটি সম্পূর্ণ অসত্য, উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

এর আগে গত ২১ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত ‘বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নিখোঁজ’ সংবাদটিকে গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে তথ্য বিবরণী দেওয়া হয়।

এছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদফতরে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত একটি খবরকে গুজব হিসেবে চিহ্নিত করে তথ্য বিবরণী দেয় মন্ত্রণালয়।

দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে তথ্য মন্ত্রণালয় যে গুজব প্রতিরোধ ও অবহিত করণ সেল গঠন করেছে সেটার প্রধান হিসেবে আছেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রেস)মিজান উল আলম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘গুজব প্রতিরোধে গঠিত এ সেল সার্বক্ষণিক কাজ করছে। গুজব সংক্রান্ত অনেক বিষয়ই তারা চিহ্নিত করেছেন। সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হচ্ছে। আর যেগুলো গণমাধ্যমে দেওয়া প্রয়োজন সেগুলো তথ্য বিবরণী দিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।’ 

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনও ধরনের গুজব যাতে কেউ ছড়াতে না পারে, সেজন্য দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় মনিটরিং ও মিডিয়া সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি সহিংসতা ঠেকানোর পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়া গুজবের সঠিক তথ্য মিডিয়া কর্মীদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে।’ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজব ও সহিংসতা প্রতিরোধ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় শনিবার (১ ডিসেম্বর) তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় গুজব ঠেকাতে পুলিশ সদর দফতরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরেই একটি সাইবার মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। সারাদেশের পুলিশ সুপারদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে ও সার্বক্ষণিক নজরদারি করতে বলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও স্থায়ীভাবে এ বিষয়ে পুলিশের নতুন একটি ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইউনিটটি গঠনের প্রক্রিয়াও প্রায় চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যাতে কোনও অবস্থাতে কেউ গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে।

গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারির জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শাখার (আইসিটি) কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৩ ডিসেম্বর) থেকেই তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারি শুরু করেছে।

ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেনও নির্বাচন কেন্দ্রীক ব্যবহার না হয়, কোনও প্রোপাগান্ডা যেনও কেউ চালাতে না পারে, এজন্য প্রশাসন এরই মধ্যে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং শুরু করেছে। আমরাও ৩ ডিসেম্বর থেকে মনিটরিং করবো।’

 

/এসটি/

লাইভ

টপ