দুদক কর্মকর্তা আল আমীনকে সতর্ক করলেন হাইকোর্ট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:০৭, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩২, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৮

হাইকোর্টঅভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ পাঠানো এবং তলবের ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আল আমীনকে সতর্ক করেছেন হাইকোর্ট। 
অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ দিয়ে একই দিনের তলবের ঘটনায় দুদক কর্মকর্তার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার পর বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে সতর্ক করে দেন।
এ সময় আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। এছাড়াও দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী একেএম ফজলুল হক।
এর আগে ভোলা সদর থানার ইলিশা ইসলামিয়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ দেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আল আমীন। কিন্তু, যেদিন নোটিশ দেওয়া হয়, আবার সেদিনই তাকে দুদকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় ওই কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট। যার ধারাবাহিকতায় আল আমীন আজ আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। 

পরে আদালত তাকে সতর্ক করেন এবং বলেন, ‘যতদিন চাকরিতে থাকবেন, জনগণের সার্ভেন্ট হিসেবে কাজ করবেন।’

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুদক আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিশ দিয়ে হাজির হওয়া বা নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য যুক্তিযুক্ত সময় দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু, দুদক কর্মকর্তা নোটিশ পাঠিয়ে ওই একই দিনে তাকে হাজির হতে বলায় দুদক আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে। যার কারণে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করায় আদালত তাকে ক্ষমা করে সতর্ক করে দিয়েছেন। ’

ঘটনার বিবরণী থেকে জানা গেছে, ভোলা সদর থানার ইলিশা ইসলামিয়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে সার্টিফিকেট জাল ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এরপর ওই অভিযোগের ভিত্তিতে নিজাম উদ্দিনকে গত ১১ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আল আমীন নোটিশ দেন। এছাড়াও নোটিশ পাঠানোর একই দিনে (১১ ফেব্রুয়ারি) প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তাকে দুদকে হাজির হতে বলা হয়।

নোটিশে অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নিজাম উদ্দিন অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে বেতনভাতা বাবদ সরকারের ৫৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং কলেজের বেসরকারি আয়ের প্রায় ৪ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন।

পরে দুদকের ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৮ মার্চ এ মামলায় রুল ও দুদকের নোটিশের কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। এরপর সেই রুলের ওপর শুনানিকালে গত ১৫ নভেম্বর দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. আল আমীনকে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, এর আগে সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিএ পরীক্ষার সনদ জালসহ ৪৮ থেকে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মামলা করেন। ২০০৭ সালের ১৪ মে ভোলা সদর থানায় ওই মামলা করা হয়। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় ওই অধ্যক্ষ মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন। অথচ সেই একই অভিযোগে তাকে নোটিশ দেয় দুদক।

 

/বিআই/এনআই/এমওএফ/

লাইভ

টপ