মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণ

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৪৪, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৭, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮

মোমবাতি জ্বালিয়ে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণ (ছবি: সাজ্জাদ হোসেন)মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালিয়ে মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে ‘নারীপক্ষ’। শনিবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযুদ্ধের গান, কবিতা আবৃত্তি ও মোমবাতি জ্বালানোর মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতিবছর বিজয় মাসের শুরুতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে নারীপক্ষ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে মোমবাতি জ্বালানো হয়।

অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নারীপক্ষ’র সদস্য রেহানা সামদানী। পরে ‘ঐ মাহসিন্ধুর ওপার থেকে’ গান পরিবেশন করেন জাহিদ মামুন। ‘আমরা সবাই রাজা’ গান পরিবেশন করেন সুরতীর্থ। নবারুন ভট্টাচার্যের ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ কবিতা আবৃত্তি করেন হুর-এ-জান্নাত। শহীদ কাদরির ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ কবিতা আবৃত্তি করেন ইকবাল আহমেদ। কবিতা ও গানের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন বীরাঙ্গনা আনোয়ারা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা এটিএম ফজলুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল করিম দিলু।

মুক্তিযোদ্ধা কাজী নুরুল করিম দিলু বলেন, ‘মানবিক রাষ্ট্রের চেতনা নিয়েই আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে আবার মানবিক রাষ্ট্রের জন্য দাবি তুলতে হচ্ছে। নতুন প্রজন্মকেই এই মানবিক রাষ্ট্র ছিনিয়ে আনতে হবে।’

নারীপক্ষের ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা ছিল, একটি বৈষম্যহীন স্বাধীন সার্বভৌম মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। যে রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিক সমান মর্যাদার দাবিদার। নারী-পুরুষ নর্বিশিষে সব জাতি গোষ্ঠী, ধর্মীয়-সম্প্রদায়, বিভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানে বসবাসকারী মানুষসহ সবার থাকবে সমান অধিকার। রাষ্ট্রের কাছে নাগরিক পরিচয়ই হবে বড় পরিচয়। মানবিক রাষ্ট্র সব নাগরিকের জান ও মালের নিরাপত্তা রক্ষা করবে। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সব মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখবে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি বিকাশের সুযোগ দেবে। সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিপাশ্বিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখবে। আইনের শাসন বজায় রাখবে। মানবিক রাষ্ট্র নৃ-তাত্ত্বিক পরিচয়, গোষ্ঠী, শ্রেণি, লিঙ্গ বা যৌন পরিচয়, ধর্মবিশ্বাস নির্বিশেষে সব নাগরিককে সমান চোখে দেখবে। কোনও বিশেষ ধর্মের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবে না। শারীরিক বা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে বিশেষ সুবিধা।

 

/এনআই/

লাইভ

টপ