নির্বাচন নিয়ে গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০২:৩৭, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৭, ডিসেম্বর ০৯, ২০১৮

সেমিনারে বক্তব্য রাখছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রায় সকল প্রতিবেদন সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানালেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। তিনি বলেন, সংবাদ সাধারণ মানুষের ওপর কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা আগে থেকে জেনে বুঝে সংবাদ প্রচার করা উচিত বলে মনে করেন।

শনিবার সকালে রাজধানীতে ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।  ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা)’র যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগ এই সেমিনারের আয়োজন করে।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ছহুল হোসাইন বলেন, ‘বস্তুনিষ্ঠতার দিকে সাংবাদিকদের দৃষ্টি দিতে হবে। একই সাথে প্রকাশিত সংবাদের কি ধরনের প্রভাব পড়বে বা পড়তে পারে তার ভবিষ্যৎ সাংবাদিকদের আগে থেকে ভাবতে হবে।’

নির্বাচনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সাবেক এই নির্বাচন কমিশনার। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সাংবাদিকদের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

এসময় নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ছহুল হোসাইন বলেন, দেশে এক ঝাঁক তরুণ সাংবাদিক রয়েছেন। যারা বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্য সংবাদ বের করে নিয়ে আসতে কাজ করছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচন করতে গিয়ে দেখেছি, এক ঝাঁক তরুণ সাংবাদিকদের। সত্য বের করে আনতে তারা প্রচুর পরিশ্রম করেছেন। তাদের মধ্যে তথ্যবহুল সংবাদ প্রচারের একটা প্রতিযোগিতা ছিল। সাংবাদিকদের সহযোগিতা ছাড়া অনেক কাজ সঠিকভাবে হতে পারে না। বিশেষ করে নির্বাচন তো না।‘

অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের প্রভাষক মাহাদী হাসান। মূল প্রবন্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নিয়ে একটি জনমত জরিপ তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিগত নির্বাচনে গণমাধ্যমের ভূমিকা ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্দেশনা উপস্থাপন করা হয়।  

ইউডার যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের চেয়ারম্যান এম মাহবুব আলম

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সারাবাংলা ডট নেটের নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ মেনন খান, যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের চেয়ারম্যান এম মাহবুব আলম।

মাহমুদ মেনন খান বলেন, ‘অতীতের অনেক ঘটনায় আমরা দেখেছি অনেকেই মিডিয়ার দিকে আঙুল তোলে। এখন সামনে নির্বাচন চলে এসেছে এখন আবার আমাদের দিকে আঙুল তোলা হবে।’ তিনি বলেন, যারা খবরের ভেতরে না গিয়ে কেবল যারা খবর জানে। ফেসবুকের মাধ্যমে সংবাদের ভেতরে না গিয়ে শুধু শিরোনাম দেখছে। যা গণমাধ্যমের বিষয়ে প্রশ্ন ওঠার অন্যতম কারণ।

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমের জন্য কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘মিডিয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন যে শর্ত দিয়েছে, তা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে মিল রয়েছে। মিডিয়ার মধ্যে সংবাদ দ্রুত প্রচারের একটা প্রবণতা রয়েছে। একই সাথে সাধারণ মানুষেরও একই চাহিদা তৈরি হয়েছে। তবে দেশে গণমাধ্যমের সংখ্যা অনেক। সাধারণ মানুষকে জানতে হবে কোনটি সঠিক নিউজ। তাহলে মিডিয়া পক্ষপাতিত্ব করছে এটা কথাটি আসবে না।‘

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আহম্মদউল্যাহ মিয়া, রেজিস্ট্রার ড. ইফফাত চৌধুরী, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফয়জুন্নাহার, ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব মুনির আহমেদ, যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিভাগের প্রভাষক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, প্রভাষক সারওয়ার আহমেদ প্রভাষক নুসরাত শারমিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের স্টুডেন্ট কাউন্সিলর মিঠুন রেজাউল হান্নান।

/এমএইচ/

লাইভ

টপ