ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা: কী বলছে ছাত্র সংগঠনগুলো

Send
সিরাজুল ইসলাম রুবেল
প্রকাশিত : ০৪:০০, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:০০, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯

ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর গঠনতন্ত্র সংশোধন না করেই বুধবার (২৩ জানুয়ারি) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য জানিয়েছেন, ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি। তবে নির্বাচনের আগে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ বেশ কিছু দাবি জানিয়ে আসছিল ছাত্র সংগঠনগুলো। কিন্তু তা সংশোধন না করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার কারণে কিছুটা অস্বস্তি প্রকাশ করা হয়েছে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।   

এদিকে কোনও কোনও সংগঠন বলছে, অতীতেও তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন স্থগিত করার নজির রয়েছে। তাই নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তিতে নেই তারা।

প্রসঙ্গত, ডাকসুর সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য ও কিছু পদ সৃষ্টি-বিলুপ্তিসহ বেশ কিছু সংশোধন চেয়েছিল ছাত্র সংগঠনগুলো। এছাড়াও হলের বাহিরে ভোট কেন্দ্র রাখা এবং সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবিও ছিল সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। 

তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় কর্তৃপক্ষকে স্বাগত জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আমরা এখনও আত্মতৃপ্ত নই। কারণ আমরা অতীতে দেখেছি, ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও নির্বাচন স্থগিত হয়েছে। সতর্কতার সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে উদযাপন করতে চাই। আমরা প্রত্যাশা করি, সব ছাত্র সংগঠন আগামী কয়েকদিন দায়িত্বশীল আচরণ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগকে সহায়তা করে নিজেদের  মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে এবং আচরণবিধি মেনে, সব কার্যক্রম পরিচালনা করবে। যাতে করে ১১ মার্চ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সব ছাত্র সংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিজয় উদযাপন করতে পারি।’

এদিকে গঠনতন্ত্র সংশোধনের আগেই ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় প্রার্থিতা বাছাই নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে ছাত্রদল। এ বিষয়ে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার আগেই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করার কথা আমরা আগেই বলেছি। তা না করে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করার যৌক্তিকতা নেই। এখন পর্যন্ত গঠনতন্ত্র সংশোধন হয়নি। কিন্তু এসবের আগে তফসিল ঘোষণা করে দিলো। নির্বাচন করতে গেলে তফসিলটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তফসিল ঘোষণার আগে অবশ্যই নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’ তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট।  

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস বলেন, ‘দীর্ঘ ২৮ বছর যে অপেক্ষা, অবশেষে ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।  তারপরও আমাদের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। আগেও চার বার তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ডাকসুর গঠনতন্ত্রের যে সংশোধনী, তা চূড়ান্ত না করে তফসিল ঘোষণা করা কতটুকু যৌক্তিক তা আমাদের প্রশ্ন থেকে যায়।’

ভোটকেন্দ্রের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘হলের মধ্যে ভোটকেন্দ্র না দিয়ে হলের বাহিরে দেওয়ার বিষয়টি যেন সিন্ডিকেটে উত্থাপন করে চূড়ান্ত করা হয়।’   

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনের তারিখ ঠিক করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই, যাতে তাদের দেওয়া সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন যাতে বাতিল না হয়। আর আমরা জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবো। সব গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল ব্যক্তি, দল, জোট সবাইকে নিয়ে একটা প্যানেল করার পরিকল্পনায় আছি।’

ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া সংগঠন ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। সংগঠনটির আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা একটি ইতিবাচক দিক। তবে এর চেয়ে বড় বিষয় হলো ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করা। কারণ এ নির্বাচন ছাত্রদের। হলগুলোতে প্রচার-প্রচারণায় যেন কোনও প্রকার বাধা দেওয়া না হয়।’ তবে তফসিল ঘোষণার আগে সহাবস্থান নিশ্চিত করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত ছিল বলেও মনে করেন সংগঠনটির নেতারা।

আরও খবর: ডাকসু নির্বাচন ১১ মার্চ 



 

/এএইচ/

লাইভ

টপ