কোচিং বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের রায় ৭ ফেব্রুয়ারি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৫আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৫৮



হাইকোর্ট কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা ৫টি রিটের ওপর আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রবিবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজীব আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. খুরশীদ আলম খান। এছাড়াও আদালতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।
এর আগে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— সেজন্য সরকার গত বছর কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। দুদকের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ওই নোটিশ দেওয়া হয়।
পরে ওইসব নোটিশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা-২০১২ নিয়ে শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। আদালত গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই চিঠির কার্যকারিতা ৪ মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি রুল জারি করেন।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি চেয়ে ‘লিভ টু আপিল’ করে। গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ একই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে এ রুলের নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
পরে আদালত এ রুল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক দুই অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ ও ফিদা এম কামালকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন।
পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য রাখেন। কিন্তু রায় ঘোষণার আগে ফিদা এম কামাল এ-সংক্রান্ত বক্তব্য উপস্থাপন করতে চাইলে আদালত তাকে সুযোগ দেন।
ফিদা এম কামাল শুনানিতে বলেন, ‘নীতিমালাটি (কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা-২০১২) স্বাধীন নয়। সরকারি কর্মচারী নীতিমালা-১৯৮৫ অনুযায়ী যেকোনও সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। বেসরকারি শিক্ষকরা যদি আইন ভঙ্গ করেন তাহলে কী হবে? শ্রেণিকক্ষের বাইরে কোচিং চলছে। ফলে ক্লাসকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। কোচিং শিক্ষা দিচ্ছে না। এটা শুধু পাস করার পদ্ধতি বাতলে দিচ্ছে। এমপিও, নন-এমপিও এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য করতে পারেন না।’
আদালত বলেন, ‘তাহলে আপনি পরামর্শ দিচ্ছেন, এই নীতিমালার অধীনে যেসব শিক্ষক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে।’
ফিদা এম কামাল বলেন, ‘এটা একটা হোস্টাইল সিচ্যুয়েশন। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক দশজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট টিউশন দিতে পারেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তারা এটা করতে পারেন না। এটা প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
আদালত তখন বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী যখন এসএসসিতে পড়ছে তখনই অভিভাবকরা তার মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে যে, তাকে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। ক্লাসরুমে মেডিক্যাল-বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যে পড়াশোনা সেটা দেওয়া হয় না। ফলে শিক্ষার্থীরা কোচিংয়ে যাচ্ছে। সরকার ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ করছে না কেন?’
ফিদা এম কামাল বলেন, ‘কোচিংয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী পরীক্ষায় পাস করছে, কিন্তু শিক্ষিত হচ্ছে না। কারণ, ক্লাসরুমের শিক্ষা দেওয়া হয়। শিক্ষক সম্মানী পায় ক্লাসে শিক্ষা দেওয়ার জন্য, কোচিং তার পেশা নয়। প্রাইভেট টিউশনকে নীতিমালায় অনুমোদন দেওয়া আছে, কোচিংকে নয়। কোচিং তার ইনহেরেন্ট (অন্তর্নিহিত) অধিকার নয়। তিনি শিক্ষা দেবেন, কিন্তু কোচ হতে পারবেন না।’
শুনানির পর দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোচিং বাণিজ্য নিয়ে দুটি রিট আজকে রায় দেওয়ার ধার্য ছিল। এ মামলায় দুজন অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন, একজন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ, উনি উনার বক্তব্য আগেই শেষ করেছেন। আজকে আরেকজন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল তার বক্তব্য দিয়েছেন।’
খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘ফিদা এম কামাল আদালতের কাছে সময় চেয়েছেন লিখিত আর্গুমেন্ট দেবেন বলে। আদালত তার কথা গুরুত্বসহকারে শুনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেওয়ার জন্য ধার্য করেছেন। এবং আগামী রবিবারের মধ্যে ফিদা এম কামালের লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলেছেন।’
দুদক আইনজীবী বলেন, ‘আদালত ব্যাখ্যা চেয়ে বলেছেন, কোনও একজন শিক্ষার্থী যদি ডাক্তার হতে চায় বা তার পরিবার চাচ্ছে সে ডাক্তার হোক, এখন সে যদি কোচিং না করে তাহলে সে কীভাবে এটা করতে পারে? এটাকে বাণিজ্য হিসেবে কেন আমরা ট্রিট করছি?’
আদালতকে উদ্ধৃত করে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘নীতিমালার আওতায় মূল আইন না থাকা সত্ত্বেও নীতিমালার দিয়ে তো কাউকে আপনি শাস্তি দিতে পারবেন না। আইন থাকতে হবে। আইন নেই, কিন্তু নীতিমালা আছে। এটা আইন কতটা পারমিট করে? এর ব্যাখ্যা চেয়েছে আদালত।’
তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ মোদ্দা কথা হলো, একটা সুনির্দিষ্ট আইন থাকতে হবে। আইন না রেখে শুধু নীতিমালাকে নিয়ে এ ধরনের পিউনিটিভ অ্যাকশন (শাস্তিমূলক ব্যবস্থা) কতটুকু নেওয়া যাবে এবং এর সাংবিধানিক একটা ব্যাখ্যা চেয়েছেন আদালত।’

/বিআই/এইচআই/
সম্পর্কিত
পৃথিবীতে নবাগত শিশুকে স্বাগত জানিয়ে গাছ লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৩০ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
তহবিলে ঘাটতি, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবসর সুবিধার ৬৭ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন
সর্বশেষ খবর
কর্মচারীদের জন্য ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করবে ইউজিসি
কর্মচারীদের জন্য ১৪ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ করবে ইউজিসি
মায়ামির বিচে ‘মাতে’ উৎসব, মেসিদের টিকিট নিয়ে আহাজারিও
মায়ামির বিচে ‘মাতে’ উৎসব, মেসিদের টিকিট নিয়ে আহাজারিও
ওইয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে স্পেন
ওইয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে স্পেন
বিমানবন্দরে ডি পলের লাইটার জব্দ, যা করলেন মেসি
বিমানবন্দরে ডি পলের লাইটার জব্দ, যা করলেন মেসি
সর্বাধিক পঠিত
৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সরকার
৪৫০ কোটির সাত তারকা রেস্টহাউস নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলো সরকার
নিজেকে কারাগারে পাঠাতে ইউএনওর কাছে আবেদন, ৫ মাসের কারাদণ্ড
নিজেকে কারাগারে পাঠাতে ইউএনওর কাছে আবেদন, ৫ মাসের কারাদণ্ড
মন্ত্রিত্ব ছাড়ার একমাস পর এলাকায় গিয়ে যা বললেন দীপেন দেওয়ান
মন্ত্রিত্ব ছাড়ার একমাস পর এলাকায় গিয়ে যা বললেন দীপেন দেওয়ান
এমপি মনির বক্তব্য ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ ছাত্রদল সভাপতির
এমপি মনির বক্তব্য ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ ছাত্রদল সভাপতির
খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ
খামেনির শেষ বিদায়: চার মাস কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ