রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলায় ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রেস্তোরাঁটির হিসাবরক্ষক আরিফ হোসেনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন আদালত। পরবর্তী ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামি ৬ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান। এ নিয়ে মোট ১৭ জন ব্যক্তি এই মামলায় সাক্ষ্য দিলেন। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি ) রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, মো. আরিফ হোসেন আদালতে বলেছেন- ২০১৬ সালে ১ জুলাই ঘটনার দিনে তিনি ছুটিতে ছিলেন। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টায় মিডিয়ার মাধ্যমে হামলার ঘটনা জানতে পারেন তিনি। পরে আরও জানতে পারেন, জাকির হোসেন নামে তাদের এক কর্মচারী আহত হয়েছেন। এরপর তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ৮ জুলাই চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান তিনি। পরে ১০ জুলাই তিনি জাকিরের সুরতহালের রিপোর্টে তিনি স্বাক্ষর করেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ নভেম্বর ৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন এবং ৮ আগস্ট ওই আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। পলাতক দুই আসামি শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
অভিযোগপত্রে ২১ জন আসামির মধ্যে ১৩ জন মারা যাওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নিহত ১৩ জনের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানের সময় এবং ৫ জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়।
অভিযোগপত্রের ৮ আসামি হলো- হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।
পলাতক আসামিরা হলো শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ। এদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। বাকি ৬ জন আসামি কারাগারে আছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। এ সময় তাদের গুলিতে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। নিহতরা হলো- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
এছাড়া বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানের সময় নিহত ৮ আসামি হলো- তামিম চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।








