গোপীবাগ রেলওয়ে কলোনি থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন না করলে আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ। বুধবার (৩০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ লাল।
তিনি বলেন, ‘গোপীবাগ রেলওয়ে কলোনি থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন না করলে এবং দাবি না মানলে আমরা বালতি ও কোদাল হাতে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। আমরা ১৫ লাখ হরিজন সারা দেশে বাস করি। কিন্তু আমাদের কোনও ঘর নেই, বাড়ি নেই। আমরা আজ নিজ দেশে পরবাসী।’
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে কোনও বৈষম্যের উল্লেখ নেই। অথচ হরিজনরা সব সময় মানবাধিকার মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা ভূমিহীন। সরকারের দেওয়া জমিতে থাকলেও কখনো বলতে পারি না এই ঘর আমাদের, এটাই আমাদের ঠিকানা।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী হরিজনদের জন্য আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু করেছেন। পুনর্বাসন ছাড়া আমাদের উচ্ছেদ করা একশো আটটি পরিবারকে আজ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হচ্ছে। আমরা হরিজন বলে আমাদের কেউ ঘর ভাড়া দিচ্ছে না।’
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এসএসসি পরীক্ষার্থী মনি রানী বলেন, ‘আমাদের মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) উচ্ছেদ করা হয়েছে। তখন আমাদের ঘরে এক গর্ভবতী মা ছিলেন। সে সময় তিনি মারাও যেতে পারতেন তাদের বুলডোজারের আঘাতে। আমাদের কোনও প্রকার নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় আমাদের অনেকে আহত হয়েছে। আমরা এখন সারি বেঁধে অন্ধকার ঘরে বসবাস করছি। ২ তারিখ থেকে আমার এসএসসি পরীক্ষা জানি না আমি কীভাবে পরীক্ষা দেবো।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, তিনি যেন খুব শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান করে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের মহাসচিব নির্মল চন্দ্র দাস, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মামুনুর রশিদ, বাংলাদেশ দলিত পরিষদের সমন্বয়ক উজ্জ্বল দাস, নারীনেত্রী সুচিত্রা রানী প্রমুখ।