নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ২০ ফেব্রুয়ারি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:০০, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৪, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি)

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) আংশিক শুনানি শেষে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত ঢাকার ৯ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ দিন নির্ধারণ করেন।

আজ (মঙ্গলবার) মামলার অন্যতম আসামি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ তার নিজের অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘আমার কী অপরাধ, আমি এখনও জানতে পারিনি। আমি নাকি মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দিয়েছি। কিন্তু কী মতামত দিয়েছি, আমি তা এখনও দেখতেই পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল মামলা হওয়ার কোনও কারণ নেই। মামলার আরজিতে উল্লেখিত অপরাধের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে কোনও সাক্ষী কোথাও বলেনি যে, আমি কোনও মতামত দিয়েছি। আমি মতামত দিইনি। মন্ত্রণালয়ের আরও যে ৮ জন মতামত দিয়েছে, মামলায় তাদের সাক্ষী বা আসামি করা হয়নি। বিরোধী দলে আছি, সেজন্য হয়রানি বা অপমান করতে হবে বলে করছে। ৮ জনে মিলে সই করলাম, বাকিরা সাক্ষীতেও নাই, আসামিতেও নাই।’

তিনি বলেন, ‘এসময়ে হাজার হাজার মামলায় বিনাবিচারে মানুষ জেল খাটছে। ওই সব মামলায় সময় না দিয়ে এ মামলায় আদালতের সময় দেওয়ার কী অর্থ আছে। মান-সম্মান নষ্ট করার জন্য এ মামলাগুলো করা হয়েছে।’ এদিন তার অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ না হওয়ায় বিচারক পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।

শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না বলে চিকিৎসার জন্য একটি আবেদন করেন।

শুনানিতে মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে হাইকোর্ট এক আদেশ দেন। তারপর খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষ না করেই তাকে আবার কারাগারে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানের তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এখন ব্যক্তিগত চিকিৎসক এনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হোক।’

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করা হয়। এরপর ১২টা ২৮ মিনিটে বিচারক তার এজলাসে আসলে শুনানি শুরু হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষ হয় ২টা ৫ মিনিটে। এসময় প্রায় একঘণ্টা ৪০ মিনিট খালেদা জিয়া হুইল চেয়ারে আদালতে বসে ছিলেন। শুনানি শেষে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন– খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দর রেজ্জাক খান, বিএনপির সাবেক অ্যার্টনি জেনারেল এ জে এম মোজাম্মদ আলী, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বোরহান উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়াসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক এসএম সাহেদুর রহমান।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদে, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, বাগেরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম এবং নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

/টিএইচ/এমএ/

লাইভ

টপ