জীবন নিয়ে বাণিজ্য আমরা চাই না: হাইকোর্ট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২৭, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩২, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯



জীবন নিয়ে কেউ বাণিজ্য করুক— এটা আমরা চাই না বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের শুনানিতে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।


একই সঙ্গে আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়ে লাখ লাখ টাকার ওষুধ হাসপাতালে সরবরাহ করছে। অথচ প্যারাসিটামল ছাড়া কোনও ওষুধ রোগীদের দেওয়া হচ্ছে না।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পালোয়ান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।
রিটের শুনানিতে আদালত বলেন, ‘জীবন নিয়ে কেউ বাণিজ্য করুক, এটা আমরা চাই না। যদি চিকিৎসকরা রাত এক-দুইটা পর্যন্ত জেগে প্রাইভেট হাসপাতালে অপারেশন করেন, তাহলে দিনে এসে (সরকারি হাসপাতালে ডিউটির সময়ে) স্বাভাবিক থাকতে পারেন না। তাহলে কীভাবে তারা সকালে এসে সরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেন, এটা তো প্রাকৃতিক পদ্ধতিরও পরিপন্থী।’
এরপর আদালত সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি দেওয়া ধারাটি (১৯৮২ সালের দ্য মেডিক্যাল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরি (রেগুলেশন) অর্ডিনেন্সের ৪ ধারা) কেন অসাংবিধানিক, বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
এই ধারায় বলা হয়েছে, সরকার নিবন্ধিত চিকিৎসকরা তাদের অফিস সময়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।
রিটের বিবাদী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশেনের (বিএমএ) সভাপতিকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
এছাড়াও মামলার বিবাদীদের একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
পরে রিটকারী আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা আদালতকে কয়েকটি নিউজ দেখিয়ে বলেছি, আমাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় যে চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ধ্বংস হওয়ার পথে। এর কারণ হচ্ছে সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের অনুমতি দেওয়া। তাই যে ধারায় সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের বিষয়ে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সরকারি ডাক্তারদের প্র্যাকটিস করা নিয়ে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রণয়ন করতে বলেছেন হাইকোর্ট। আমরা মামলার শুনানি করতে গিয়ে সরকারি ডাক্তারদের প্র্যাকটিস নিয়ে কোনও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা পাইনি। তবে বিএমডিসি থেকে সব ডাক্তারের বিষয়ে একটি গাইডলাইন থাকলেও সরকারি ডাক্তারদের নিয়ে কোনও সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। তাই আমরা মনে করি, সরকারি ডাক্তাররা কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে একটি নীতিমালা করা হোক।’
প্রসঙ্গত, গত ৪ ফেব্রুয়ারি অফিস সময়ে সরকারি চিকিৎকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী। তারা হলেন আবদুস সাত্তার পালোয়ান, সালাউদ্দিন রিগান, সুজাত মিয়া, মো. আমিনুল হক এবং মো. কাওছার উদ্দিন মণ্ডল।

আরও পড়ুন...



সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস কেন অবৈধ নয়, হাইকোর্টের রুল

/বিআই/এইচআই/

লাইভ

টপ