মধ্যশ্রেণি বাংলা ভাষার সঙ্গে বেইমানি করেছে: সলিমুল্লাহ খান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৫২, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৭, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

3ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলা ভাষার ওপর এক ধরনের সামাজিক উপেক্ষা এসেছে সমাজের নেতৃস্থানীয় শ্রেণির কাছ থেকে। সব জায়গায় দোকানের নাম ইংরেজি হরফে লেখা হচ্ছে, ছোট্ট করে বাংলায় লিখছে। এখানে মধ্যশ্রেণি বাংলা ভাষার সঙ্গে স্রেফ বেইমানি করেছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা কোথায়? এখনও তো আমরা সব লোককে সাক্ষর করতে পারিনি বাংলা ভাষাতে। এজন্য ঐতিহাসিকভাবে আমাদেরকে জবাবদিহি করতে হবে।’ 

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের আয়োজনে ‘বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষা’ শীর্ষক বৈঠকিতে তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টা ৩০ মিনিটে বাংলা ট্রিবিউন কার্যালয়ে শুরু হয় সাপ্তাহিক এই আয়োজন।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘পরিমাণগত দিক দিয়ে দেখতে হবে বাংলা ভাষায় কতজন লোক কথা বলে। এটা হচ্ছে সাধারণ মাপ। ফরাসি ভাষা জাতিসংঘের ভাষা, কিন্তু ওই ভাষায় কথা বলা লোকের সংখ্যা বাংলার চেয়ে কম। ফরাসি ভাষার যে সাহিত্য-ইতিহাস, সেটি দেখলে বোঝা যায়, বাংলার চেয়ে ফরাসি কিংবা ইংরেজি প্রবীণ ভাষা নয়। কিন্তু ইংরেজি এবং ফরাসি সাহিত্যের যেরকম বিকাশ হয়েছে তা বাংলা ভাষায়ও হয়েছে তা আমরা দাবি করলেও পৃথিবী সেটা জানে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে কতকগুলো জোচ্চুরি রয়েছে। যেমন– বলা হচ্ছে, হিন্দি ভাষায় বেশির ভাগ লোক কথা বলে। এখানে জোচ্চুরিটা হলো, ছয়টি ভাষাকে পরিসংখ্যানে এক করে বলা হলো যে “এতো” লোক বলে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য। পরিসংখ্যানে রাজপুতানা থেকে বিহারের ভাষা, নানা প্রকারের আছে। সেখানে সেগুলো মূলত আলাদা ভাষা। ভাষাকে বড় করা এবং ছোট করার মধ্যে একটি রাজনীতি আছে। ইংরেজিতে এটাকে বলে “আইডিওলজি”। পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল ধর্মীয় কারণে– একথা যে বলা হয়, এটিই আইডিওলজি। এখন দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল অন্য কারণে। কিন্তু সে সময় মানুষকে ধর্মের দোহাই সহজে দেওয়া গেছে, তাই দেওয়া হয়েছে। আমি সবিনয় নিবেদন করি, “বাংলাদেশ রাষ্ট্র হয়েছে বাংলা ভাষার নামে”– আমরা বলে থাকি। এটিকেও আমার কাছে আইডিওলজি মনে হয়ে। বাংলাদেশ হয়েছে অন্য কারণে।’

সলিমুল্লাহ খান বলেন,  ‘বাংলাদেশের সামনে থেকে যখন পরিপ্রেক্ষিত বদলে গেছে, এমন সময় ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি প্রতিদিন অশ্রুপাত করছেন কলকাতার বইমেলায়– “আমি যদি বাঙালি না হতাম, তাহলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হতে পারতাম।” যিনি হিন্দিভাষী নন তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না আমি তা বলছি না। বাস্তব সত্য হলো, ভারতে হিন্দিভাষীদের আধিপত্য তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রাজনীতি আছে।’

মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকিতে আরও অংশ নিচ্ছেন– জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, লেখক ও গবেষক অদিতি ফাল্গুনী, অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাযহারুল ইসলাম এবং বাংলা ট্রিবিউন সম্পাদক জুলফিকার রাসেল।

রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন স্টুডিও থেকে এ বৈঠকি সরাসরি সম্প্রচার করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ। পাশাপাশি বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবুক ও হোমপেজে লাইভ দেখা গেছে এ আয়োজন। বৈঠকির সহযোগিতায় রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)। 

 

 

 

/এসও/এমএএ/

লাইভ

টপ