ইজতেমায় দায়িত্বশীলদের ব্যর্থতা বরদাশত করা হবে না: র‍্যাব ডিজি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:২১, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৯, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলনবিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তা বিধান বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ‘কারও ব্যর্থতা আমরা বরদাশত করবো না। কোনও দায়িত্বশীলদের ভুলে, কোনও মুরব্বির ভুলে, কোনও ব্যক্তির বা কোনও গ্রুপের ভুলে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে ইজতেমার নিরাপত্তার বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘আমরা আশা করবো ইজতেমার দায়িত্বশীলরা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে রাষ্ট্র কিংবা ইসলামের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। যেভাবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে সেভাবেই সবাই নিয়ম পালন করবেন এবং বয়ান হবে, আখেরি মোনাজাত হবে। প্রথম গ্রুপ ইজতেমা শেষে শান্তিপূর্ণভাবে প্রস্থান করবেন, পরে আরেক গ্রুপ আসবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইজতেমা নিয়ে গত এক বছরে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। তাই এবারের ইজতেমায় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ বেশি। প্রতিবছর ইজতেমা ঘিরে যে ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকবে এর সঙ্গে এবার বাড়তি কিছু যুক্ত হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনও ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি হলে মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখে এবার সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।’

তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা যেহেতু আল্লাহর এবাদত করেন তাই তারা ইজতেমার শান্তিশৃঙ্খলা পরিবেশ বজায় রাখবেন। তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিদের প্রতি আশা রাখবো, তারা যেন এখানে কোনও ধরনের বিভেদ সৃষ্টি না করেন। তাবলিগ জামাতের মুরুব্বিদের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত যোগাযোগ থাকবে যাতে করে কোনও ধরনের গুজব সৃষ্টি হলে আমরা এটা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারি। তাবলিগ জামাতের নেতাদের বলবো, কোথাও কোনও তথ্য পেলে সেটি যাচাই না করে শেয়ার করবেন না। আর যাচাই না করতে পারলে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। আমরা যাচাই করবো। কিন্তু আনভেরিফাইড কোনও তথ্য এই বিশাল মহাসমাবেশে ছড়িয়ে দেবেন না।’

র‍্যাব প্রধান আরও বলেন, ‘অন্য সব বারের তুলনায় এবার সিসিটিভি কাভারেজ বেশি থাকবে। বিদেশি মেহমানসহ আসা সব মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাব। বিদেশিদের নিরাপত্তার সঙ্গে দেশের ইমেজ জড়িত। তাই আমরা লক্ষ্য রাখবো এমন কোনও ঘটনা যেন না ঘটে যা বিদেশি মেহমানদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে।’

মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোনও ধরনের গুজবে কান দেবেন না। আপনাদের আশেপাশে আমরা সাদা পোশাকে যেমন থাকবো, পোশাকেও থাকবো। আপনাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে যাবেন, আমরা দ্রুত আপনাদের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করবো।’

বেনজীর বলেন, ‘ইজতেমা ঘিরে আমাদের সব প্রস্তুতি রয়েছে। তাই বলতে পারি, এই মহাসমাবেশকে শান্তিপূর্ণ করতে আমাদের প্রস্তুতি পর্যাপ্ত। কোনও ধরনের আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। ইজতেমা ময়দানের ক্যাপাসিটি অনুযায়ী র‍্যাবের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের হেলিকপ্টার টহল থাকবে, মাঠে ড্রোন থাকবে। ইলেক্ট্রিক ইক্যুইপমেন্ট দিয়ে ময়দান সুইপিং করা হবে এবং ডগ স্কোয়াড প্রস্তুত থাকবে। সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষের দ্বন্দের সুযোগে কোনও তৃতীয় পক্ষ যেন সুযোগ নিতে পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সতর্ক থাকবো, তারপরও কেউ যদি এ ধরনের অপচেষ্টা করতে চেষ্টা করে তাহলে আমরা তাদের সমূলে বিনষ্ট করবো।’

উল্লেখ্য, আগামীকাল শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে শুরু হতে যাচ্ছে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে এবার ৫৪তম ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতোপূর্বে ইজতেমা তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলেও এবার মুসল্লিদের মতভেদের কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় তা চার দিন নির্ধারণ করেছে।

১৫ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর থেকে আমবয়ানের মাধ্যমে প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন ঢাকার কাকরাইল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা যোবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)। আখেরি মোনাজাত শেষে যোবায়ের অনুসারী মুসল্লিরা শনিবার রাতের মধ্যেই ইজতেমা মাঠ ছেড়ে যাবেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজের পর থেকে আমবয়ানের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন মাওলানা সা’দ আহমাদ (ওয়াসিফুল ইসলামের) অনুসারীরা। এ পর্বের আখেরি মোনাজাত হবে সোমবার (১৮ ফেব্রুয়ারি)। 

 

/আরজে/এফএস/

লাইভ

টপ