ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের পাশে আশিক ফাউন্ডেশন

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ০১:২৫, মার্চ ১৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৪০, মার্চ ১৫, ২০১৯





খেলায় মত্ত এই শিশুদের দেখে কে বলবে এরা ক্যানসার আক্রান্ত!ক্যানসার আক্রান্ত শিশু আসিফ আহমেদের (১২) ইচ্ছা নভোথিয়েটার দেখার। তার ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন খোকন (২০)। চাকরিজীবী খোকন একজন ক্যান্সার সারভাইভার। আর আসিফ বর্তমানে আশিক ফাউন্ডেশন ফর চাইল্ডহুড ক্যানসারের প্যালিয়েটিভ কেয়ারে চিকিৎসাধীন। আসিফের মতো অনেক ক্যানসার আক্রান্ত শিশুর সহায়তায় কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী এই প্রতিষ্ঠান।
আশিক ফাউন্ডেশন ফর চাইল্ডহুড ক্যানসারের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন সালমা চৌধুরী জানান, প্রতিষ্ঠার পর আশিক ফাউন্ডেশন থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৪৩টি শিশু চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছে। এটা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। তবে আইসিইউতে রাখার ব্যবস্থা নেই। চিকিৎসক যেসব শিশুর ব্যাপারে আর আশাবাদী নন, সেসব শিশুর কিছু কিছু ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করে আশিক ফাউন্ডেশন। যেমন ভালো খাবার, কোথাও বেড়াতে যাওয়া ইত্যাদি।
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে আশিক হোসেন চৌধুরী ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৩-তে চলে গেছে। আমার ছেলের চিকিৎসা লন্ডনে হয়েছে। তখন থেকেই জানি, হাসপাতালে ‘প্লে সেন্টার’ থাকে। আমার ছেলে খুব পছন্দ করতো প্লে কর্নারে গিয়ে খেলতে। তার কথা মনে করেই আমরা বাংলাদেশে শুরু করি।’
তিনি জানান, মহাখালী ক্যানসার হাসপাতালে প্লে কর্নার করতে চাইলেও জায়গা পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু প্লে কর্নারে বিভাগে ‘আশিক প্লে সেন্টার’ শুরু করা হয় ১৯৯৩ সালে। ২০০৪ সালে সিলেট মেডিক্যাল কলেজে, ২০০৭ সালে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজে ২০১৭ সালে প্লে সেন্টার চালু করেছি। সপ্তাহে ছয় দিন এই প্লে সেন্টার খোলা থাকে। শুক্রবার বন্ধ। তাদের প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেন্টারও আছে। প্যালিয়েটিভ কেয়ারে এক হাজার ৩ জন চিকিৎসা নিয়েছে। প্যালিয়েটিভ সেন্টারে মায়েদের ট্রেনিং দেওয়া হয়।
সালমা চৌধুরী বলেন, অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারে না অনেক শিশু। কোনও দাতা (ডোনার) বা দাতাসংস্থা এগিয়ে এলে তাদের পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, বাংলামোটরে তাদের সেল্টার সেন্টার আছে। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা মায়েরা তাদের সন্তানদের নিয়ে থাকে। দিনে ১০০ টাকা করে ভাড়া দেন। যদি ডোনার পাওয়া যেতো তবে তাদের সব খাবার দেওয়া সম্ভব হতো।
মায়েদের সঙ্গে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুরাএই সেন্টারে সহযোগিতা পাওয়া ১০০ শিশু এখন ক্যানসার সারভাইভার জানিয়ে সালমা চৌধুরী বলেন, ‘ওষুধ বন্ধ করার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত ভালো থাকলে তাকে আমরা সারভাইভার বলি। আমাদের প্রায় ১০০ শিশু সারভাইভার হওয়ার পথে আছে।’
তিনি বলেন, একটা সারভাইভার গ্রুপ করেছিলাম। যারা সারভাইভার তারা সপ্তাহে একদিন হাসপাতালে যাবে এবং তাদের কথা অন্য রোগীদের বলবে। তবে বেশির ভাগ মায়েদের এ ব্যাপার অনীহা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফাউন্ডেশন থেকে আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে সালমা চৌধুরী বলেন, ব্লাড ক্যানসারের রোগীকে আড়াই হাজার করে দেওয়া হয়। এছাড়া তিন হাজার এবং পাঁচ হাজার করেও অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ডোনার না থাকলে কোনও সহায়তা করা যায় না। এ পর্যন্ত ২০৭ জনকে সহায়তা করা হয়েছে।
সালমা চৌধুরী বলেন, চিকিৎসা শেষে সন্তানকে বাড়ি নেওয়ার পর অনেকেই আর চিকিৎসা চালিয়ে যান না। এতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই বিষয়টি দেখার পর আমার মেয়ে এই আর্থিক সহায়তার প্রকল্পটি চালু করে। এখন মায়েরা বোঝেন, আমরা সহযোগিতা করতে না পারলেও নিজেরাই চিকিৎসার চেষ্টা করেন।

/এইচআই/

লাইভ

টপ