নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় করের টাকা বিনিয়োগের দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৪৫, মার্চ ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৯, মার্চ ১৯, ২০১৯

নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় করের টাকা বিনিয়োগসহ সাতটি দাবি জানিয়েছেন ইক্যুইটিবিডিসহ ১৮টি নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। এসময় বক্তারা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিনোদন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ক্ষেত্রে পুরুষরা অগ্রাধিকার ভোগ করছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অসম নিয়োগ, পদোন্নতি, মজুরিসহ বহুমুখী বৈষম্যের শিকার নারীরা।’ বৈষম্য দূর করে সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ৭টি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো হলো: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি ও বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারিকরণ নয়। সবক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য কমাতে হবে। দক্ষ নারী শ্রমিক তৈরি করতে হবে। নারীপ্রধান পরিবারের ওপর করের বোঝা নয়। নারীর সব কাজের আর্থিক মূল্য বিবেচনা করতে হবে। করের টাকা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগ করতে হবে এবং নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ এবং ডে কেয়ারের ব্যবস্থা করতে হবে।

গ্লোবাল ডেইজ অব অ্যাকশন উপলক্ষে ইক্যুইটিবিডি-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফেরদৌস আরা রুমী। তিনি বলেন, ‘অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও অবদান দিন দিন বাড়ছে। তবে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ এখনও আশানুরূপ নয়। অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে জড়িত শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগই নারী। তবে একই ধরণের শ্রমের সাথে যুক্ত থাকলেও পুরুষের তুলনায় নারীরা মজুরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কম ভোগ করেন। এছাড়া গৃহশ্রমসহ অন্যান্য সেবামূলক কাজে নারীরা পুরুষের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সময় দেন। কিন্তু নারীর এই শ্রমকে জাতীয় আয়ে অর্ন্তভুক্ত করা হয় না, যার আর্থিক মূল্য জিডিপির প্রায় ৭৭ শতাংশের সমান।’ 

বাংলাদেশ কিষাণী সভার সভাপতি রেহানা আকতার বলেন, ‘নগরীর হাতে গোনা কয়েকটি গার্মেন্ট ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কর্মজীবী মায়ের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা নেই।’

এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নারীদের কর্মসংস্থান আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম।

ইক্যুইটিবিডি-এর প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম বলেন, ‘নারীর গৃহশ্রম ও সেবামূলক কাজকে যদি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় তাহলে নারী-পুরুষের সমমর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।’

প্রতিষ্ঠানটির আরেকজন সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক বরকত উল্লাহ মারুফ, ভাসমান নারী শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা বেগমসহ আরও অনেকে।

 

 

/এএইচ/

লাইভ

টপ