শিক্ষকের গাড়িচাপায় গুরুতর আহত আন্দোলনরত জবি ছাত্রী

Send
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:২৮, মার্চ ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:২৫, মার্চ ২১, ২০১৯

আয়েশা মোমেনানিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন শেষে ফেরার পথে শিক্ষকের গাড়ির চাপায় আহত হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দুই শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এবং পরে অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের গাড়ি ভাঙচুর করেন।

বুধবার (২০ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই শিক্ষার্থী হলেন– ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১০ম ব্যাচের ইমা আক্তার এবং ১৪তম ব্যাচের আয়েশা মোমেনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন কর্মসূচি শেষে জবি শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে এসে টিএসসির দিকে যেতে থাকে। এ সময় প্রধান ফটকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মোফাজ্জল হোসেনের গাড়ি দুই শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেয়। গাড়ির ধাক্কায় ইমা দূরে ছিটকে পড়েন। এ সময় আয়েশা সামনে পড়লে তার পায়ের ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা তুলে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।

তারা আরও জানান, শিক্ষার্থীরা গাড়িটি আটক করে আহত আয়েশাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করলে ওই শিক্ষক তাতে রাজি হননি। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গাড়িটি ভাঙচুর করেন। পরে শিক্ষক গাড়িটি নিয়ে চলে যান। এ সময় আয়েশাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, তার বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে গেছে। ব্যান্ডেজ করার পর ব্যথা বেড়ে যাওয়ায় তাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আন্দোলন শেষে সবাই ক্যাম্পাসে ফিরে আসছিলো। এ সময় মূল ফটকের সামনেই স্যারের গাড়ি ধাক্কা মারে দুজনকে। যেহেতু শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিলো তাই স্যারের উচিত ছিলো গাড়ি না এগোনো।’

পরিসংখ্যান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, ’২৩ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য একটিমাত্র গেট। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত অন্য ফটকগুলো অবমুক্ত না করলে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটবে।’

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোফাজ্জল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে গাড়ির সামনে রিকশা ছিলো তাই আমি তাদের দেখতে পাইনি। আমি ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি। আমি এখনও তার সঙ্গেই আছি। এ দুর্ঘটনার কারণে আমি যে কী কষ্ট পাচ্ছি তা বুঝিয়ে বলা যাবে না!’  তবে দুর্ঘটনার সময় আহতদের ফেলে রেখে গাড়ি নিয়ে চলে যাওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে আহত শিক্ষার্থী ইমা আক্তার ও আয়েশা মোমেনার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক অনুতপ্ত। তিনি নিজেই আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। যেহেতু শিক্ষক ও ছাত্রী উভয়েই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের, তাই বিষয়টি সেভাবেই মীমাংসা করা হবে।’

/এমএএ/

লাইভ

টপ