নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৮ শতাংশ দোকানে তামাক পণ্যের স্টিকার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:৪১, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৩, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

ধূমপানবিরোধী জরিপের ফল প্রকাশ

দেশে তামাক বিক্রি হয় এমন দোকানগুলোর ১৮ শতাংশে তামাক পণ্যের স্টিকার, ১৪ শতাংশ দোকানে পোস্টার, আট শতাংশে ব্র্যান্ডিং মার্ক এবং এক শতাংশ দোকানে ব্যানার দেখতে পেয়েছে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের জরিপ পরিচালনাকারী দল। তারা বলছেন, এটা আইনের লঙ্ঘন। ২০১৩ সালের সংশোধিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন’ অনুযায়ী তামাকপণ্যের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যেকোনও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ। 

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের এ তথ্য তুলে ধরেন সংস্থাটির প্রোগ্রাম অফিসার ডা. আহমাদ খায়রুল আবরার। ‘ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস (সিটিএফকে)-এর কারিগরি সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালনা করা হয়।

ডা. আবরার জানান, জরিপে দেশের কোনও তামাক পণ্যের দোকানেই আইন শতভাগ মেনে চলতে দেখা যায়নি। দেশে তামাক বিক্রি হয় এমন দোকানগুলোর ১৮ শতাংশে তামাক পণ্যের স্টিকার, ১৪ শতাংশ দোকানে পোস্টার, আট শতাংশে ব্র্যান্ডিং মার্ক, এক শতাংশ দোকানে ব্যানার দেখা গেছে। এসবের পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে তামাক পণ্যের ব্র্যান্ড সম্বলিত ডিসকাউন্ট কুপন, উপহার সামগ্রী, দোকানির পরনে যে গেঞ্জি ছিল— তা তামাক পণ্যের পরোক্ষ বিজ্ঞাপন। এছাড়া আজকাল অনেক দোকানেই ‘এখানে ন্যায্যমূল্যে সিগারেট পাওয়া যায়’ এমন স্টিকার ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটের দাম লিখে প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এটাও এক ধরনের— যা আইন অনুসারে নিষিদ্ধ।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর যত মানুষ মৃত্যুবরণ করেন, তার এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী হৃদরোগ। আর এই হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ তামাক সেবন। তামাক ব্যবহারের ফলে হৃদরোগ ছাড়াও ক্যানসার, ফুসফুসের রোগসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রচুর মানুষ। তাই জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি মোকাবিলায় তামাকের বিস্তার রোধের কোনও বিকল্প নেই।

জনগণের মাঝে তামাকের বিস্তার ঠেকাতে আইন অনুযায়ী সব ধরনের তামাকপণ্যের (সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, সাদাপাতা ইত্যাদি) প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ। কিন্তু, তামাক কোম্পানিগুলোর ফাঁদে পড়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অনেক সময় না জেনে-বুঝেই তাদের দোকানে তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন।

বক্তারা আরও  বলেন, ২০১৩ সালের সংশোধিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন’ অনুসারে তামাক পণ্যের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যেকোনও বিজ্ঞাপন প্রদর্শন ও প্রচারণা করলে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ একলাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। অন্যদিকে, প্রোডাক্ট ডিসপ্লের নামে তামাকপণ্যের বিজ্ঞাপনের বিষয়টি আইনে পরিষ্কারভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘনের জন্য বিক্রেতাদের (দোকানি) পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তামাক কোম্পানিকেও শাস্তির আওতায় আনতে বিদ্যমান আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক ড. নাসিরুদ্দিন আহমেদ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সাবেক অতিরিক্ত সচিব  রুহুল কুদ্দুসসহ তামাকবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

/এইচএন/এপিএইচ/

লাইভ

টপ