রাজধানীতে ফের বিদেশি নাগরিক ছিনতাইয়ের শিকার

Send
আমানুর রহমান রনি ও চৌধুরী আকবর হোসেন
প্রকাশিত : ০১:৩৯, এপ্রিল ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৩২, এপ্রিল ২১, ২০১৯

 

ছিনতাইয়ের শিকার ভারতীয় নাগরিক সুপ্রীয়

রাজধানীতে ফের ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক বিদেশি নাগরিক। শনিবার (২০ এপ্রিল) দিনের আলোয় জাতীয় সংসদ ভবনের পাশের একটি সড়ক থেকে ভারতীয় এক পর্যটকের ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি ছিনতাই মামলা করেছে ওই ভারতীয় নাগরিক। গত বছরের জানুয়ারিতেও ধানমন্ডিতে রিকশা আরোহী জার্মান এক তরুণী ছিনতাইয়ের শিকার হন। একটি প্রাইভেটকারে থাকা ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। জার্মান ওই তরুণীর ছিনিয়ে নেওয়া জিনিসপত্র এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার বেলা ১২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের পূর্বপাশে চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশের উড়োজাহাজ মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন ভারতীয় নাগরিক সুপ্রীয় সরকার (৪৫)। তিনি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বিমান বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারে (বিটিটিএফ) যাওয়ার পথে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। তার পাসপোর্ট, মোবাইল, ল্যাপটপ, ডলারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব জিনসিপত্র নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা।

শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ ছিনতাইয়ের বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় একজন নাগরিক বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত পর্যটন মেলায় যাওয়ার সময় তার হাত ব্যাগটি মোটরসাইকেল আরোহী টান দিয়ে নিয়ে যায়। ব্যাগের ভেতরে তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, মোবাইল, পাসপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিল। এই ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।’

ভারতীয় নাগরিক তার মামলার এজাহারে ছিনতাইয়ের ঘটনার পুরো বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি এজাহারে লিখেছেন, ‘আমি সুপ্রীয় সরকার (৪৫) (ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট J6121715) ভারতের দার্জিলিংয়ে শিলিগুড়ি থেকে ১৭ এপ্রিল টোয়াবের আমন্ত্রণে ট্যুরিজম ফেয়ারে অংশ নিতে বাংলাদেশে আসি। ২০ এপ্রিল বেলা আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আমি ও আমার রুমমেট দেবাশিস চক্রবর্তীকে (৪৭) নিয়ে ফামর্গেটের শুকতারা হোটেল থেকে রিকশা যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের দিকে রওনা হই। বেলা ১২টা ৫ মিনিটের দিকে চন্দ্রিমা উদ্যানের সিগ্যানাল (উড়জাহাজ মোড়) পার হয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিলাম। কেন্দ্রের ১০০ গজের মধ্যে রিকশাটি আসলে পিছন থেকে মোরটসাইকেলে থাকা দুই জন ব্যক্তি আচমকা আমার সঙ্গে থাকা কালো রঙের ব্যাগটি টান দিয়ে নিয়ে যায়। এদের একজনের পরনে ছিল কালো টিশার্ট এবং মোটরসাইকেল চালকের মাথায় ছিল হেলমেট। তারা ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত চলে যায়।’

সুপ্রীয় তার ব্যাগে থাকা জিনিসপত্রেরও বর্ণনা দিয়েছেন মামলায়। তিনি লিখেছেন, ‘ব্যাগের মধ্যে আমার পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, স্যামসাং এ৭ মডেলের একটি মোবাইল ফোন, এইচপি ব্র্যান্ডের একটি ল্যাপটপ, ৮০০ ডলার, ভারতীয় ১৫ হাজার টাকা এবং আরও প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ছিলো।’

সুপ্রীয়র অভিযোগ পাওয়ার পর শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। ‍পুলিশ সুপ্রীয়কে আশ্বাস দিয়েছে তার জিনিসপত্র দ্রুত খোঁজ করে ফেরত দেবে।

তবে পুলিশের কথায় আশ্বাস পাননি সুপ্রীয়। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা তিনি ভুলতেই পারছেন না। দিন-দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশ থেকে এ রকম ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনি অবাক হয়েছেন।

সুপ্রীয় সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি পাসপোর্ট হারিয়েছি, এখন দেশে ফিরে যেতেও আমাকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। এছাড়া ল্যাপটপে আমার ব্যবসায়ীক সব তথ্য রয়েছে। মোবাইল হারিয়েছি, টাকাও নিয়েছে। আমার জন্য এটি বড় ধরনের দুযোর্গ।’

সুপ্রীয় আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের আমন্ত্রণে এসেছিলাম মেলায় অংশ নিতে। আমার একটি ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান আছে। আমি বুঝতি পারছি না, ট্যুরিস্টদের এমন অনিরাপদ পরিস্থিতে থাকতে হয় কিনা।’

গত ১৮ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) শুরু হয়। শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। বৃহস্পতিবার এ মেলার উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শনিবার ছিল মেলার শেষ দিন। মেলায় ভারত, নেপাল, ভুটান, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা অংশ নিয়েছিলো। এ মেলায় দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

শেরেবাংলা নগর থানার আরেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আহাদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। মোটর সাইকেলটি চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’

এরআগেও বিদেশি নাগরিক এধরনের ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় ফটোগ্রাফির ওপর পাঠশালায় ছয় মাসের একটি কোর্স করতে জার্মান তরুণী সুইন্ডে উইদারল্যান্ড ঢাকায় আসেন। পাঁচ মাস তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ছবি তুলেন। ভাসমান হাসপাতাল, পাহাড়, শ্রমজীবী মানুষ ও রোহিঙ্গাদের ছবি তোলেন তিনি। ওই বছরের ১৪ জুন সকালে জার্মান যাওয়ার একদিন আগে তিনি ধানমন্ডি সীমান্ত স্কয়্যারের সামনে ছিনতাইয়ের শিকার হন। তিনি রিকশায় করে শঙ্কর থেকে তার তার এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় ফিরছিলেন। তার ব্যাগে ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক ও ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ছিল। যা হারিয়ে তিনি ভেঙে পড়েন।

ওই ঘটনায় তিনি ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত তার জিনিসপত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। শনিবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা কয়েকজন সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছিলাম। তবে তাদের কাছে থেকে জার্মান তরুণীর বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাদের আর এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়নি। তারা অন্য মামলার আসামি ছিল।’

ওসি বলেন, ‘আমরা এখনও কাজ করছি। তবে এখনও গাড়ি বা ছিনতাইকারী কেউ শনাক্ত হয়নি।’

 

/টিটি/

লাইভ

টপ