আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:০৮, এপ্রিল ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৯, এপ্রিল ২৩, ২০১৯

শিক্ষার্থীদৈর সড়ক অবরোধ

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের আল্টিমেটাম দিয়ে নীলক্ষেতের সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) পাঁচ দফা দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত রাজধানীর নিউ মার্কেট থানার নীলক্ষেত ক্রসিং অবরোধ করেন ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রায় চারঘণ্টা তারা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সেশনজটসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিরসনে আজকের (মঙ্গলবার) মধ্যে কোনও ঘোষণা না আসলে বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ফের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের পাঁচদফা দাবি হলো— ১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সব বিভাগের ফল একই সময় প্রকাশ করতে হবে। ২. ডিগ্রি অনার্স ও মাস্টার্স সব বর্ষের ফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। ৩. সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন থাকতে হবে। ৪. প্রতিমাসে প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টে প্রতি কলেজে দুদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে। ৫. সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে।
শিক্ষার্থীরা এই লিখিত দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর‌্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘দাবি আদায় না হলে সাত কলেজের সব কার‌্যক্রম বন্ধ থাকবে।’
শিক্ষার্থীরা লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন, পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হলো— ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল ইসলাম কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাংলা কলেজ।
ছাত্ররা অভিযোগ করেন, ‘ঢাবি’র অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সাত কলেজে নেমে আসে কালো অধ্যায়। দীর্ঘ ৯ মাস সাত কলেজের কার‌্যক্রম বন্ধ থাকার পর মানববন্ধন, অনশন কর্মসূচি, অবরোধ সর্বশেষ সিদ্দিকের চোখের বিনিময়ে ঢাবি আমাদের কার‌্যক্রম ধীর গতিতে শুরু করে।’

তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘অধিভুক্ত হওয়ার প্রায় দুই বছর দুই মাস পরও সাত কলেজ কোনও আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছে না। হাজারো সমস্যার মধ্যে রয়েছে এই কলেজগুলো। ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্স কোর্সে সাতটি কলেজের প্রায় আড়াই লাখ শিক্ষার্থীর জীবন হুমকির মুখে।’
বর্তমানে এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি করেন— ডিগ্রি, অনার্স, মাস্টার্সের সেশনগুলোর কোন বর্ষের পরীক্ষা কখন হবে, শিক্ষার্থীরা তা জানেন না। প্রত্যেক বর্ষের পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয় পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে। একটি বর্ষের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় প্রায় ২/৩ মাস যাবৎ। যে সব বর্ষের প্রাকটিকাল পরীক্ষা আছে, তা পরীক্ষার পরপরই গ্রহণ করা হয় না। ফলাফল প্রকাশে নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘ সময়। তা কখনও ৮/৯ মাস কখনও বা একবছর। ফলাফল প্রকাশের পর তা হয় ভুলে ভরা, কখনও সিজিপিএ থাকে না, কখনও ফলাফলের জায়ঘায় NW আসে। প্রমোটেড, নন প্রমোটেড নিয়ে শিক্ষার্থীরা দ্বিধায় পড়ে যান। আর ফলাফল হয় প্রায় ৯৫ শতাংশ অকৃতকার্য।
শিক্ষার্থীরা বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাদেরকে আরও বেশি সেশনজটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ফলাফলও তারা ৯০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে পারছে না। ত্রুটিযুক্ত ফলাফলও তারা প্রকাশ করছে। এসবের সমাধান চান তারা।
ঢাকা কলেজের ম্যানেজমেন্টের শিক্ষার্থী মফিজুল ইসলাম হৃদয় বলেন, ‘আমরা সকালে প্রথমে মানববন্ধন করেছি। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে নীলক্ষেত পর‌্যন্ত বিক্ষোভ করেছি। দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমাদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আমরা চেয়েছিলাম ভিসি স্যার আসুক। তিনি আমাদের আশ্বাস দিক। কিন্তু তিনি আসেননি। আমরা বুধবার আবারও রাস্তায় নামবো।’

 

/এআরআর/ এপিএইচ/

লাইভ

টপ