বিআইডব্লিউটিসি এর সেই হামির মিয়াকে চট্টগ্রামে বদলি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:০৯, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১০, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

হামির মিয়া

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার বিভাগের ভাণ্ডার অধীক্ষক হামির মিয়াকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে। ১৮ এপ্রিল সংস্থার চিফ পার্সোনেল ম্যানেজার স্বাক্ষরিত এক দাফতরিক আদেশে তাকে চট্টগ্রাম অঞ্চলিক অফিসে বদলি করা হয়। বুধবার (২৪ এপ্রিল) তিনি সেখানে যোগদান করবেন।

এর আগে, সংস্থাটির নিজস্ব একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ১৬ এপ্রিল ‘ছিল শাস্তির সুপারিশ, পেলেন পদোন্নতি!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় বাংলা ট্রিবিউনে। ১৭ এপ্রিল তার কাছ থেকে পরবর্তী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে জবাব চাওয়া হয় এবং ১৮ এপ্রিল তার বদলির নির্দেশ জারি হয়।

জানা গেছে, ২০১১ সালে বিআইডব্লিউটিসিতে স্টোর অফিসার হিসেবে যোগ দেন হামির মিয়া। পরে ভাণ্ডার অধীক্ষক পদটি শূন্য হলে অতিরিক্ত দায়িত্ব পান তিনি। ওই দায়িত্ব থাকাকালে সংস্থার সব ক্রয়ে ৩-৫ শতাংশ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশন আদায় করতেন তিনি। কমিশন না দিলে ঠিকাদারের বিলে স্বাক্ষর করতেন না। এছাড়া টাকার বিনিময়ে নিম্নমানের মালামাল নেওয়া, টেকনিক্যাল লোক না হওয়া সত্ত্বেও মালামাল যাচাই কমিটিতে থাকা, সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ তুলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তদন্ত করানোর কথা বলে ঘুষ আদায় করা এবং নিয়মিত অফিস না করার মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিসির প্রপেলার ক্রয় সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে বেনামি একটি অভিযোগ জমা পড়ে। ওই অভিযোগপত্রে বেশকিছু অনিয়মের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। অভিযোগটি তদন্ত করার দায়িত্ব পড়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিকরুর রেজা খানমের ওপর। তিনি তদন্ত করে ২০১৬ সালের ১১ মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত করতে গিয়ে তিনি দেখেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার তদন্তে স্টোর অফিসার হামির মিয়ার অনিয়মের চিত্র উঠে আসে এবং বেনামি অভিযোগটি তিনিই করেছেন বলে প্রমাণিত হয়।

তদন্তে হামির মিয়ার বিষয়ে বেশ কিছু অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর, প্রতিবেদনে তাকে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যা দিয়ে, স্টোর অফিসারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা কোনও মতেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মতামত দেওয়া হয়। এতে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। তাছাড়া তৎকালীন মন্ত্রী শাজাহান খানের ভাই পরিচয়ে তিনি যেসব চাঁদাবাজি ও কাজকর্ম করেছেন, তাতে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে তার বিরুদ্ধে এসব সুপারিশ করা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দেড় মাসের মধ্যে ২০১৬ সালের ২২ জুন তাকে ভাণ্ডার অধীক্ষক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

তবে ১৬ এপ্রিল বাংলা ট্রিবিউনে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পরদিনই তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

এই ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রহিম তালুকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাংলা ট্রিবিউনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাকে কারণ দর্শাও নোটিশের পর চট্টগ্রামে বদলি করা হয়েছে।’ 

 

/এসএস/এএইচ/

লাইভ

টপ