অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবিতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে মানববন্ধন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:০৩, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৯, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ মাসেই রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে ইকুয়েডর তাদের লন্ডন দূতাবাসে ডেকে অ্যাসাঞ্জকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে সমবেত হয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। ‘ফ্রেন্ডস অব উইকিলিকস’ ব্যানারে একত্রিত হয়ে অ্যাসাঞ্জের বাংলাদেশি সমর্থকরা তার মুক্তি দাবি করেন। বিশ্বজুড়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সমালোচনাও করেন তারা।

২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। জামিন শর্ত ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের এক কুখ্যাত কারাগারে বন্দি আছেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ‘ফ্রেন্ডস অব উইকিলিকস’ পরিচয়ে ফেসবুকে একটি ইভেন্ট খুলে অ্যাসাঞ্জের পক্ষে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রায় ৫০ জনের একটি দল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় ব্রিটিশ কাউন্সিলের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে নেওয়া এইসব আইনি পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানান। অ্যাসাঞ্জের বাংলাদেশি সমর্থকরা উইকিলিকসে ইরাক-আফগানিস্তানে ইঙ্গো-মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাপরাধ ফাঁসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, মানবতার পক্ষে অনন্য ভূমিকার কারণেই যুদ্ধবাজ দেশগুলোর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে নিপীড়ন নেমে এসেছে।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ও তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ কর্মসূচি শেষে সমবেত সাংবাদিকদের বলেন, ‘অ্যাসাঞ্জ সেই কাজ করেছেন, যা আজকের যুগে করাটা খুব জরুরি।’ তিনি বলেন, উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার সমস্ত কাজ মানুষের পক্ষে।

আয়োজকদের পক্ষে অ্যাকটিভিস্ট সারোয়ার তুষার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'সর্বাত্মকবাদী যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যিক ক্ষমতার বিরুদ্ধে সত্যভাষণের কারণে অ্যাসাঞ্জ আজ দণ্ডিত। দুনিয়াজোড়া মানুষের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রগুলোর ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড ফাঁস করেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার স্যাটেলাইট রাষ্ট্রগুলোর রোষানলে পড়েছেন তিনি।'

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে অ্যাসাঞ্জ ও তার সমর্থকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হলে তার মানবাধিকার হরণ করা হবে। কর্মসূচির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তুষার বলেন, অ্যাসাঞ্জের মুক্তি দাবি তোলার অর্থ হলো যুদ্ধ-উন্মাদ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যক্তি ও সমাজের স্বাধীনতার জন্য তৎপর হওয়া। 'এজন্যই আমরা অ্যাসাঞ্জের মুক্তির দাবিতে দাঁড়িয়েছি, নজরদারি-খবরদারির রাষ্ট্রপ্রণালির বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়িয়েছি।'

মানববন্ধন কর্মসূচিতে আনু মুহাম্মদ ছাড়াও সাংবাদিক আলতাফ পারভেজ, লেখক রাখাল রাহা ও আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম উপস্থিত ছিলেন।

/বিএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ