ডিএসসিসি’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৯০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Send
শাহেদ শফিক
প্রকাশিত : ১৪:০৬, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪৬, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

 

ফাহিম উদ্দিনঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) রেভিনিউ সুপারভাইজার ফাহিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংস্থার প্রায় ৯০ লাখ টাকার রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংক কর্মকর্তার নাম, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে তিনি সংস্থার হোল্ডিং ট্যাক্সসহ বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা এই টাকা সংস্থার তহবিলে জমা না দিয়ে ভুয়া চালান ফরম তৈরি করে আত্মসাৎ করেন।

ডিএসসিসি’র অঞ্চল-৪ এর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে রেভিনিউ সুপারভাইজার পদে কর্মরত ফাহিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও এখনও কোনও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন— তারা আত্মসাৎ করা টাকা আদায়ের চেষ্টা করছেন এবং আদায়ের পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএসসিসি’র সংস্থাপন বিভাগ সূত্র জানায়, কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে যোগদানের পর ফাহিম উদ্দিনকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে রেভিনিউ সুপারভাইজার পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ডিএসসিসি’র অঞ্চল-১ এর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে রেভিনিউ সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে সেখান থেকে তাকে অঞ্চল-৪ এর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে একই পদে বদলি করা হয়।

জানা গেছে, ফাহিম উদ্দিন শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাজ্জাদ হোসেন রাজার ছেলে। অভিযোগ আছে, ডিএসসিসিতে ১৬ গ্রেডের কম্পিউটার অপারেটর কাম মুদ্রাক্ষরিক পদ থেকে যোগদান করলেও প্রভাব খাটিয়ে ১৪ গ্রেডের রেভিনিউ সুপারভাইজারের পদ বাগিয়ে নেন ফাহিম।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাড়ির মালিকরা হোল্ডিং ট্যাক্স জমা দিতে আসলে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা রেখে দিতেন। এরপর ভুয়া চালান ফরম তৈরি এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। বাড়ির মালিকদের তিনি ভুয়া চালানের কাগজ দিতেন। সম্প্রতি এরকম একটি চালান ফরম নিয়ে একজন বাড়ি মালিকের সন্দেহ হয়। তিনি বিষয়টি যাচাই করেন এবং ফাহিমের জালিয়াতি ধরা পড়ে। ওই বাড়ি মালিক বিষয়টি ডিএসসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে জানালে তারা গোপনে তা তদন্ত করান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএসসিসি’র কর্মকর্তারা ফাহিমের আওতাধীন ওয়ার্ডের সব হোল্ডিংয়ের ট্যাক্স অনুসন্ধান করতে থাকেন। কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ধারণা মতে, ফাহিম ডিএসসিসির প্রায় ৯০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এরইমধ্যে শীর্ষ কর্মকর্তারা তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করেছেন।

ডিএসসিসি’র রাজস্ব শাখার একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মার্চ মাসের শেষে ও এপ্রিলের শুরু থেকেই ফাহিমকে তার কাজের প্রতি অনীহা বা অবহেলা করতে দেখা গেছে। তাকে কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন নির্দেশনার বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি সেসব নির্দেশনা পালনে অনীহা প্রকাশ করেন।’ এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ফাহিমকে তার ওয়ার্ডের সব কাগজপত্র নিয়ে বসতে বললে তিনি সাড়া দেননি। ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। তিনি অফিসেও আসছেন না। এরপর আমরা নিজ উদ্যোগেই বিষয়টি যাচাই করি এবং তার অনিয়মের ব্যাপারে নিশ্চিত হই।’ ২০১৫ সালে বর্তমান ওয়ার্ডে যোগদানের পর থেকে ফাহিম এই অনিয়ম করে আসছেন বলেও জানান তিনি।

ডিএসসিসি’র রাজস্ব শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে অভিযোগ করেন, ফাহিম এর আগে যে ওয়ার্ডে ছিলেন সেখানেও এ ধরনের অনিয়ম করে থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করা হলে বেরিয়ে আসবে।

জানতে চাইলে ডিএসসিসি’র সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের (অঞ্চল-৪) কর কর্মকর্তা কাজী সুমনা ইয়াসমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফাহিমের বিষয়ে এধরনের কথা শুনেছি। তবে সঠিক কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ডিএসসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর আত্মসাৎ করা টাকাগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ করছি। আশা করি, টাকা উদ্ধার হয়ে যাবে। টাকা উদ্ধার হলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। না হয় সে পালিয়ে যেতে পারে।’

সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী দায়িত্বে অবহেলা, অর্থ আত্মসাৎ, অসদাচরণ বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। কিন্তু ডিএসসিসির এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে গত দু’দিন ধরে ফাহিম উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

/এপিএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ