বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে রাস্তা ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:০৪, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৪, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

সাত কলেজের সমস্যা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন শিক্ষার্থীরা। আলোচনায় কী সমাধান আসে এবং তার ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা জানাতে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলন করবেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ ক্যান্টিনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনের এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের আন্দোলন কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন সাত কলেজের আন্দোলনকারীরা। তারা রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার পর প্রায় তিন ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বুধবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর সোয়া দুইটার দিকে নীলক্ষেত মোড়ে কর্মসূচি সমাপ্তের ঘোষণা দেন ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর। তিনি বলেন, ‘আজকের মতো আমাদের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করছি। এরপর আমরা প্রত্যেক সেশনে কী সমস্যা রয়েছে, সেগুলো লিখিত আকারে নিয়ে স্যারদের সঙ্গে কথা বলবো। স্যারদের সঙ্গে কথা বলে কী সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় এবং আমরা পরবর্তী সময়ে কী করবো, তা নিয়ে আগামীকাল সকাল ১০টায় ঢাকা কলেজ ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে জানাবো।’
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন ঢাবি প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাত কলেজের সমস্যা সমাধানে দশটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের আহ্বান করেন, তোমাদের সমস্যাগুলো আমরা শুনবো। আমরা ইতোমধ্যে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারপরও যেসব সমস্যা থাকবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের পথ বের করা হবে।


কিন্তু ঢাবি প্রক্টরের আশ্বাসে বিশ্বাস রাখতে পারেননি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়ে ঢাবি প্রক্টর একপর্যায়ে নীলক্ষেত মোড় থেকে চলে যান। এরই কিছু সময় পর তিনি আবার নীলক্ষেত মোড়ে আন্দোলনকারীদের সামনে আসেন। কিছুক্ষণ আগে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেই কথাগুলোই আবার বলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলো জানান। বক্তব্য শেষে আন্দোলনকারীদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

প্রক্টর গোলাম রব্বানী চলে যাওয়ার পর আন্দোলনকারীদের পক্ষে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানান ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু বকর। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ভিসি স্যারের পক্ষ থেকে প্রক্টর স্যার এসেছিলেন। তিনি কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। আমাদেরকে দশটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। এই দশ সিদ্ধান্তে আমাদের আংশিক সমাধান হয়েছে। বাকি সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য স্যাররা আমাদের বসে কথা বলার আহ্বান করেছেন। আমরা স্যারদের সঙ্গে বসব, কী সিদ্ধান্ত হয় তা সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) পাঁচ দফা দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত মিরপুর সড়কের নীলক্ষেত ক্রসিং অবরোধ করেন ঢাবির অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রায় চার ঘণ্টা তারা মিরপুর সড়ক অবরোধ করে রাখেন। সেশনজটসহ বিভিন্ন অনিয়ম নিরসনে পাঁচ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হলো-

১. পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ত্রুটিমুক্ত ফল প্রকাশসহ একটি বর্ষের সব বিভাগের ফল একই সময় প্রকাশ করতে হবে।
২. ডিগ্রি অনার্স, মাস্টার্স সব বর্ষের ফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ প্রকাশসহ খাতার পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
৩. সাত কলেজ পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ভবন থাকতে হবে।
৪. প্রতিমাসে প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টে প্রতি কলেজে দুইদিন করে মোট ১৪ দিন ঢাবির শিক্ষকদের ক্লাস নিতে হবে।
৫. সেশনজট নিরসনের জন্য একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশসহ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে।

এই দাবির প্রেক্ষিতে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ঢাবি প্রশাসন থেকে ১০টি সিদ্ধান্তের কথা জানান ঢাবি প্রক্টর। সমস্যা সমাধানে আরও পদক্ষেপের প্রয়োজন হলে তা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় পক্ষ থেকে নেওয়া ১০টি সিদ্ধান্ত হলো-
১. সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে, পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে সব বিষয়ের ফল প্রকাশ করার ব্যাপারে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২. যেসব বিষয়ে অধিক হারে অকৃতকার্য হয়েছে সেসব বিষয়ে আবেদনক্রমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩. সাত কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ভবনে স্বতন্ত্র সেল গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

৪. অধিভুক্ত সাত কলেজের সেশনজট নিরসনকল্পে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষদের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৫. একাডেমিক ক্যালেন্ডার তৈরি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৬. ২০১৬ সালের চতুর্থ বর্ষ অনার্স পরীক্ষার ফল (সিজিপি সমন্বয় করে) ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

৭. ডিগ্রি প্রথম বর্ষ-২০১৭ পরীক্ষার রুটিন ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

৮. মাস্টার্স-২০১৬ অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু ২৮ এপ্রিল এবং পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ জুন।

৯. অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ-২০১৮ পরীক্ষা শুরু ১৯ মে।

১০. ২৮ এপ্রিল উপাচার্যের সভাপতিত্বে সাত কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানকল্পে করণীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: 
ঢাবি প্রক্টরের কথায় বিশ্বাস নেই ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের

/আরজে/এআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ