সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ৫

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩৪, এপ্রিল ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৪, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

আটক পাঁচজনরাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)। এই চক্রটি মানহানির ভয় দেখিয়ে অভিনব কায়দায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদাবাজি করতো বলে জানিয়েছে র‌্যাব। এছাড়া তারা নিজেদের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতো বলে র‌্যাবের দাবি।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার ৬নম্বর সেক্টরের আলাওল এভিনিউ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- রাসেল হাওলাদার ওরফে রাসেল হাসান ওরফে হাসান (২৯), তার স্ত্রী সালমা আক্তার (২১) ও শ্যালিকা আছমা আক্তার (২১);  তাদের সহযোগী মানিক হোসেন (২২) ও  মোখলেছার রহমান ওরফে জনি (২৫)। তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৬ হাজার ১৫০ টাকা, দুইটি হাতঘড়ি, একটি মোটরসাইকেল, দুইটি দাওয়াত কার্ড ও বিভিন্ন পত্রিকার পেপার ক্লিপিং উদ্ধার করে র‌্যাব-১।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) মিজানুর রহমান ভুঁইয়া বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সংঘবদ্ধ এই চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সমাজের স্বনামধন্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদাবাজি করে আসছিল। তারা উত্তরা এলাকার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষ, বিভিন্ন কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে ছিল। চক্রের মহিলা সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে টার্গেট ব্যক্তির কাছে গিয়ে বিভিন্ন অযুহাতে ছবি তুলে এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে অন্যথায় ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন মামলার করার ভীতি প্রদর্শন করে থাকে। প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে আসছিল।

মিজানুর রহমান ভুঁইয়া জানান, রাসেল হাওলাদার এই চক্রটির মুলহোতা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, জন্মস্থান বরিশাল হলেও সে ১৯ বছর যাবৎ ঢাকায় বসবাস করছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও নিজেকে একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে পরিচয় দিতেন সবার কাছে। বরিশাল ও ঢাকায় রাসেলের একাধিক স্ত্রী রয়েছে। তার বর্তমান স্ত্রী সালমা এবং শ্যালিকা আছমা এসব অপারাধকর্মে তাকে সহযোগিতা করতো।

জিজ্ঞাসাবাদে সে আরও জানায়, শুরুতে রাসেল গার্মেন্টসকর্মী হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে উত্তরা বাণী, স্বাধীন সংবাদ, নতুন দিক, উত্তরা টাইমস ও শ্যামল বাংলা নামের সংবাদপত্রে সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করে বলে জানায়। বর্তমানে সে সরেজমিন নামক একটি পত্রিকায় কর্মরত। তার স্ত্রী ও শ্যালিকাকে সে টার্গেট ব্যক্তিদের কাছে পাঠাতো ও চাঁদা দাবি করতো। চাঁদা না দিলেই ইভটিজিং ও নারী নির্যাতন মামলার করার ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করতো।  এছাড়াও রাসেল হাওলাদার নিজেকে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দিয়ে সংবাদপত্রে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে  মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতো। তার বিরুদ্ধে বরিশালের মুলাদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি এবং মিরপুর থানায় জাল নোট পাচারের জন্য একটি মামলা চলমান রয়েছে। মানিক হোসেন ও মোখলেছার রহমান এই চক্রের সক্রিয় সদস্য।

আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এএসপি মিজানুর রহমান ভুঁইয়া।

/এসজেএ/এনআই/

লাইভ

টপ