সুপ্রভাত বাসের মালিকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৬, এপ্রিল ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৪৮, এপ্রিল ২৫, ২০১৯

বাস মালিক ননী গোপালবাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার চৌধুরীকে প্রগতি সরণী এলাকায় বাসচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সুপ্রভাত বাসের মালিকসহ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। বহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক দেবদাস চন্দ্র অধিকারী দেখিলাম মর্মে অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেন। এর আগে বুধবার (২৪ এপ্রিল) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক কাজী শরিফুল ইসলাম এ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন- সুপ্রভাত পরিবহনের বাস মালিক ননী গোপাল সরকার, বাসের চালক সিরাজুল ইসলাম, কনডাক্টর ইয়াছিন আরাফাত ও চালকের সহযোগী ইব্রাহিম হোসেন।

আদালতে সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক শেখ রকিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার চৌধুরীকে প্রগতি সরণীতে বাসচাপা দেওয়ায় দণ্ডবিধির ২৭৯/৩০৪/১০৯ ধারায় দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

তারা হলেন- সুপ্রভাত পরিবহনের বাস মালিক ননী গোপাল সরকার ও কনডাক্টর ইয়াছিন আরাফাত। অভিযোগপত্র থেকে চালক সিরাজুল ইসলাম ও চালকের সহযোগী ইব্রাহিম হোসেনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে আবরারকে চাপা দেওয়ার আগমুহূর্তে মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় দণ্ডবিধির ২৭৯/৩৩৮-ক/১০৯ ধারায় চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

অভিযোগপত্রে আসামিরা হলেন- সুপ্রভাত পরিবহনের চালক সিরাজুল ইসলাম, কনডাক্টর ইয়াছিন আরাফাত, বাস মালিক ননী গোপাল সরকার x চালকের সহযোগী ইব্রাহিম হোসেন।

প্রসঙ্গত, ১৯ মার্চ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকে সুপ্রভাত বাসটি ছেড়ে আসে। তখন চালক ছিলেন সিরাজুল ইসলাম। বাসটি গুলশানের শাহজাদপুর বাঁশতলা এলাকা অতিক্রম করার সময় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তখন পরিবহনের যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে ট্রাফিক পুলিশে সোপর্দ করেন। ঘটনাস্থলের কিছু দূরে বাসটি রাখা হয়। এ সময় কন্ডাক্টর ইয়াসিন আরাফাত বাসের মালিকের কাছে ফোন দিয়ে জানায়, বাসটি এখানে থাকলে জনগণ পোড়াতে বা ভাঙচুর করতে পারে। তখন মালিক আরাফাতকে দ্রুত বাসটি সেখান থেকে নিয়ে সরে পড়তে বলেন। এরপর চালকের আসনে বসে কন্ডাক্টর বাসটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় প্রগতি সরণীতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার বাসটির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান।

ঘটনার প্রতিবাদে সুপ্রভাত পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল, দোষী চালকের ফাঁসির দাবিসহ আট দফা দাবিতে বেশ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই ঘটনায় আবরারের বাবা বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

/টিএইচ/টিটি/

লাইভ

টপ