দেশে আনা হয়েছে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মরদেহ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:৪৩, এপ্রিল ২৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৬, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া বর্ষীয়ান সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মরদেহ শনিবার (২৭ এপ্রিল) রাতে দেশে আনা হয়েছে।

মরহুমের বড় মেয়ে মুসাররাত হুমায়রা অঙ্গনার বরাত দিয়ে বিএনপির চেয়ারপাসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, মরদেহবাহী থাই এয়ারওয়েজের বিমানটি রাত ১২টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করে।

আগামীকাল রবিবার দুপুরে জানাজা শেষে তার মরদেহ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এরআগে রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, রাতে মরদেহ সংরক্ষণের পর তার প্রথম নামাজে জানাজা রবিবার জোহরের নামাজের পর গ্রিনরোড ডরমিটরি মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে আসরের নামাজের পর জাতীয় প্রেস ক্লাবে। এরপর মরহুমের ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে।

শায়রুল জানান, বিষয়টি তদারকি করছেন মরহুমের বড় ভাই ডক্টর মাহবুব উল্লাহ। তিনি বিএনপি'র মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছেন।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে (ব্যাংকক সময় ১১টা ৫ মিনিট) ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যু হয়। কার্ডিয়াক সমস্যার কারণে গত ২ এপ্রিল ৬৯ বছর বয়সী মাহফুজ উল্লাহকে দেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তার ফুসফুসে পানি জমে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১০ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমানে তাকে ব্যাংককে নেওয়া হয়।

তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের থিংকট্যাংকের অন্যতম একজন ছিলেন। ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতি করতেন। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্র অবস্থায় সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। ১৯৭২ সাল থেকে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় কাজ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর ও ১৯৭৪ সালে সাংবাদিকতায় পুনরায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-দূতাবাসে কাজ করেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

গত বছরের নভেম্বরে মাহফুজ উল্লাহ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবনীগ্রন্থ লেখেন, যার নাম ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ হার স্টোরি’। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৫০টির বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী, যাদুর লাউ, যে কথা বলতে চাই, অভ্যুত্থানের ঊনসত্তর, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন: গৌরবের দিনলিপি (১৯৫২-৭১), উলফা অ্যান্ড দ্য ইনসারজেন্সি ইন আসাম।

/এসটিএস/টিটি/

লাইভ

টপ