দাতা-গ্রহীতাদের জন্য ‘স্বতন্ত্র কিডনি ফাউন্ডেশন’ গঠনের সুপারিশ

তাসকিনা ইয়াসমিন
০১ মে ২০১৯, ১৫:২৭আপডেট : ০১ মে ২০১৯, ১৫:৩৫

কিডনি চিকিৎসা
দেশে কিডনি চিকিৎসায় সাফল্য পেতে দাতা ও গ্রহীতার জন্য একটি স্বতন্ত্র কিডনি ফাউন্ডেশন গঠনের সুপারিশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ। এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দাতা ও গ্রহীতা উভয়েই উপকার পাবে এবং কিডনি নিয়ে যে বিশাল বাণিজ্য হচ্ছে তারও লাগাম টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্যবীমা সংক্রান্ত প্রস্তাবনায় এই বিষয়টির উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল প্রস্তাবনাটি লিখেছেন ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ এবং সহযোগিতা করেছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন।

স্বাস্থ্যবীমার প্রস্তাবক ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ ইকোনমিকসের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কিডনি চিকিৎসার দুটি বিষয় রয়েছে। একটি ডায়ালাইসিস এবং অপরটি ট্রান্সপ্লান্টেশন। আমাদের দেশের আইনে রয়েছে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করতে গেলে ডোনার লাগবে। এই ডোনার কারা হবে তা আইনে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের আইনে বলা হয়েছে, বাবা-মা-ছেলে-মেয়ে-দাদা-দাদি এই রকম নিকট আত্মীয়দের কাছ থেকে কিডনি নেওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে যাদের টাকা আছে তারা পাশের দেশ ইন্ডিয়া এবং চায়নাতে যাচ্ছে। তারা এসময় ডোনার বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখানে ট্রান্সপ্লান্টেশন টেকনোলজি ডেভেলপ করলো। কিন্তু রোগীরা ট্রান্সপ্লান্ট করতে পারলো না। তারা দেশে কিডনি ৫-৬ লাখ টাকায় ট্রান্সপ্লান্ট করতো কিন্তু সেটা বিদেশে যাবার কারণে ৩৫-৪০ লাখ টাকায় করছে। তারমানে রোগীর খরচ বাড়লো, কিডনির সাপ্লাই বাংলাদেশ থেকে গেল। টাকা বেশি লাগলো সাত-আট গুণ। তাহলে লাভটা কি হলো? তাই আমরা প্রস্তাব করেছি কিডনির যেহেতু ডিম্যান্ড আছে কিডনি কেউ বিক্রি করতে চায়, সেহেতু একটি শক্তিশালী কমিশন গঠন করা যেতে পারে। এটি পুরোপুরি সরকার নিয়ন্ত্রিত হবে। একটি শক্তিশালী স্বাধীন কমিশন কিডনি ডোনার ফাউন্ডেশন বা কিডনি কমিশন হতে পারে। সেই কমিশনের মাধ্যমে কিডনি ডোনেট করা সম্ভব হবে।

প্রস্তাবনায় তিনি বলেছেন- যারা কিডনি বিক্রি করতে আগ্রহী তারা কমিশনে আসবে। কমিশন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে মিলিয়ে দেখবে তাকে প্রলোভন দেওয়া হয়েছে কিনা। আবার যে কিডনি কিনতে চায় সে কমিশনকে জানাবে যে তার কিডনি প্রয়োজন। এতে করে যেটা হবে, কিডনি ক্রেতা এবং বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি কোনও যোগাযোগ হবে না। এতে করে কারও আর্থিক প্রয়োজন থাকলে সে ন্যায্য মূল্য পাবে।

তিনি বলেন, এখন যাদের কিডনি লাগবে তারা দেশ থেকে ডোনার ভারত ও চীনে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকক্ষেত্রে যাবার সময় ডোনারদের একরকম প্রলোভন দেওয়া হয়, পরে অন্যরকমভাবে লেনদেন হচ্ছে। আবার অনেকক্ষেত্রে ডোনার নিজেও জানে না যে তার কিডনির দাম আসলে কতো। সরকারি সিস্টেমে একটা অথোরিটি হবে, সত্যি বিক্রি করার লোক থাকলে, তখন আর প্রলোভন থাকবে না। কারো নিড আছে এ কারণে সে দিবে। যে দিবে সে ন্যায্য মূল্য পাবে। যে নিবে সেও সাপ্লাইটা ঠিকমতো পাবে। আর দেশে এগুলো জটিলতা ছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে করা গেলে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার মধ্যেই ট্রান্সপ্লান্টেশন করা সম্ভব। এতে সময়, শ্রম, অর্থ ও ভোগান্তি সব থেকেই বাঁচা যাবে।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান দুলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সরকার যদি কিডনি ফাউন্ডেশন আলাদাভাবে গঠন করতে পারে তাহলে সবার জন্যই খুব উপকার হয়। প্রতিবছর ৩০-৪০ হাজার মানুষের কিডনি টোটালি ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে ৯০ ভাগই ট্রিটমেন্টের আগে মারা যাচ্ছে। আত্মীয় স্বজনের বাইরে যদি কেউ ডোনেট করতে চায়, এটা কমিশনের মাধ্যমে হবে।

তবে তিনি এক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে লেনদেন হলে তা কেনাবেচা হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ফাউন্ডেশন বা কমিশন গঠনের প্রস্তাবটি ভালো। তবে কিডনির দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে যদি টাকার লেনদেন হয় তাহলে তা কেনাবেচা হয়ে যাবে। এর বদলে অনেক দেশে ডোনারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থ দেওয়া হয়। সেই অর্থ যদি কমিশনের মাধ্যমে দেওয়া হয় তাহলে ভালো হয়। কিডনি গ্রহীতা পার্টি ডোনারকে কোনও অর্থ দেবে না। এই অর্থ সরকার ডোনারকে দেবে। সরকার ডোনারকে একটা গিফট হিসেবে এটা দেবে।

তিনি বলেন, কমিশন গঠন করা হলে কিডনি ট্রেডিং বন্ধ হয়ে যাবে। বাইরের দেশে কিডনি সংক্রান্ত অর্থ পাচার বন্ধ হবে। তখন আমাদের একটা বিশাল কিডনি ব্যাংক তৈরি হবে। কিডনি চিকিৎসায় গতি ও সাফল্য আসবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ক্যান্সার প্রতিরোধ ও গবেষণা কেন্দ্র (সিসিপিআর) আয়োজিত জাতীয় ক্যান্সার সম্মেলনে স্বাস্থ্যবীমার ধারণাটি তুলে ধরা হয়। ওই সেশনে চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির ডিন এবং সাধারণ বীমা করপোরেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবায়েত বিষয়টির প্রশংসা করেন। পরে সাধারণ বীমা করপোরেশন থেকে একটি চিঠি পাঠান তিনি। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

ডায়ালাইসিসের সুবিধা পান মাত্র এক-চতুর্থাংশ কিডনি রোগী

ডোনারের অভাবে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হয় না নারীদের

দেশে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করাতে খরচ তিন লাখ, বিদেশে ৪০ লাখ টাকা

 

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ঢাকায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা
ঢাকায় আজ বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, কমতে পারে দিনের তাপমাত্রা
চীনের এআই উত্থানে কেন চাপে যুক্তরাষ্ট্র
চীনের এআই উত্থানে কেন চাপে যুক্তরাষ্ট্র
পর্তুগাল-কলম্বিয়া গোলশূন্য, বিরতিতে উজবেকিস্তান এগিয়ে কঙ্গোর বিপক্ষে
পর্তুগাল-কলম্বিয়া গোলশূন্য, বিরতিতে উজবেকিস্তান এগিয়ে কঙ্গোর বিপক্ষে
মায়ামিতে মুখোমুখি পর্তুগাল-কলম্বিয়া, আটলান্টায় কঙ্গো-উজবেকিস্তান
মায়ামিতে মুখোমুখি পর্তুগাল-কলম্বিয়া, আটলান্টায় কঙ্গো-উজবেকিস্তান
সর্বাধিক পঠিত
ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: কারা খাবে না ক্যাপসুল, কারা খেতে পারবে?
ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন: কারা খাবে না ক্যাপসুল, কারা খেতে পারবে?
আগুনে পুড়ে ছাই সাবেক উপদেষ্টার চেম্বার, প্রাণ হারালেন দুই কর্মচারী
আগুনে পুড়ে ছাই সাবেক উপদেষ্টার চেম্বার, প্রাণ হারালেন দুই কর্মচারী
ইজারা দেওয়া হবে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ১১ ট্রেন
ইজারা দেওয়া হবে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ১১ ট্রেন
তীব্র গরমেও কেন এসি ব্যবহার করতে পারছে না ইউরোপ
তীব্র গরমেও কেন এসি ব্যবহার করতে পারছে না ইউরোপ
সড়কের দুই পাশে সারি সারি কালেমার পতাকা, প্রশাসনের নজরদারি
সড়কের দুই পাশে সারি সারি কালেমার পতাকা, প্রশাসনের নজরদারি