‘আইএস জঙ্গি’ মুতাজের সহযোগীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে সিটিটিসি

Send
নুরুজ্জামান লাবু
প্রকাশিত : ২৩:৩৪, মে ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩, মে ০৯, ২০১৯

আইএস জঙ্গি মুতাজসিরিয়া ফেরত ‘আইএস জঙ্গি’ মুতাজ আব্দুল মজিদের সহযোগীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট- সিটিটিসি। এজন্য মুতাজের ব্যবহৃত মোবাইলফোনটি ফরেনসিক পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার কাছ থেকে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে না পারা মুতাজ অনেক তথ্য এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, মুতাজ একমাত্র আরবি ভাষায় কথা বলতে পারে। এজন্য জিজ্ঞাসাবাদে দোভাষীর সহায়তা নেয়া হচ্ছে। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।



রবিবার (৫ মে) রাজধানী ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে সিরিয়া ফেরত জঙ্গি মুতাজ আব্দুল মজিদ কফিল উদ্দিন বেপারী ওরফে মুতাজকে (৩৩) গ্রেফতার করে সিটিটিসি। বংশানুক্রমে বাংলাদেশের নাগরিক মুতাজ সৌদি আরব থেকে আইএস’র হয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধ করতে গিয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। গ্রেফতারের পর আদালতে সোপর্দ করে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা।

সিটিটিসির উপ-কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মুতাজকে গুরুত্ব দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু সে অনেক কিছুই আড়াল করার চেষ্টা করছে। প্রয়োজনে তাকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মুতাজকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তার ব্যবহৃত মোবাইলফোন ঘেঁটে বিভিন্ন দেশের ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ওইসব ব্যক্তি সিরিয়ায় আইএস’র হয়ে যুদ্ধ করতে যাওয়া ফরেন টেরোরিস্ট ফাইটার বা এফটিএফ কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, সিরিয়ায় যাওয়া মুতাজের সঙ্গে একাধিক এফটিএফ-এর যোগাযোগ থাকতে পারে। এজন্য তার মোবাইলফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করে তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা জানান, মুতাজ বাংলাদেশে নব্য জেএমবির যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল, তাদেরও পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তার বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক তামিম চৌধুরী ও বৃটিশ নাগরিক সামিউন রহমান ইবনে হামদুনের উদাহরণ দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তারাও বাংলাদেশে এসে স্থানীয় জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সংগঠিত করেছিল। মুতাজেরও একই পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

সূত্র জানায়, সৌদি আরবে জন্ম ও বেড়ে ওঠা মুতাজের বাবা মৃত আব্দুল মজিদ বেপারী বাংলাদেশি হলেও মা হালিমা পাকিস্তানের নাগরিক। তার বাবার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন রশিদ বেপারীর কান্দি গ্রামে। রাজধানীর উত্তরা এলাকার ১১ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের ৩২ নম্বর বাসায় অবস্থান করছিল সে। সৌদি আরবের জেদ্দার আল-কান্দারা, সাইদ-বিন-জুবের নামে একটি মসজিদের পেছনে আব্দুল লতিফ জামিল নামে একটি ভবনের চার তলায় পরিবারের সঙ্গে থাকতো মুতাজ।

কর্মকর্তারা জানান, মুতাজ ২০১৪ সালে সৌদি দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে সে ২০১৬ সালে প্রথম সৌদি আরব থেকে তুরস্ক যায়। তুরস্কে থাকাকালীন সময়ে সে সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওই সংগঠনের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। কিন্তু ওই সময় সে সিরিয়ায় ঢুকতে না পেরে সৌদি আরবে ফিরে যায়। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করে বিফল হয়। পরে ২০১৮ সালের মে মাসে সে তুরষ্ক হয়ে সিরিয়ায় গিয়ে আইএস’র হয়ে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশ নেয়।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) অহিদুজ্জামান নূর বলেন, ‘আমরা মুতাজকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য ও যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল তা জানার চেষ্টা করছি। তবে সে অনেক কিছুই এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছে। তাকে প্রয়োজনে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

যেভাবে সন্ধান মেলে মুতাজের
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এককজন কর্মকর্তা জানান, বিদেশি একটি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে মুতাজের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি জানতে পারেন তারা। কিন্তু তার সম্পর্কে বিস্তারিত কোনও তথ্য ছিল না। পরে বিমানবন্দর থেকে সম্ভাব্য দিনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ছবির সঙ্গে মুতাজের চেহারা মিলিয়ে নিশ্চিত হন তারা। বিমানবন্দর থেকে মুতাজ একটি উবারের গাড়ি ব্যবহার করায় আরও কিছু সূত্র হাতে আসে অভিযানকারী কর্মকর্তাদের। হাতে পাওয়া সেই সূত্র ধরেই ৫ মে অভিযান চালিয়ে মুতাজকে গ্রেফতার করা হয়।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ওই কর্মকর্তা জানান, মুতাজকে শনাক্ত করা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। কারণ তাকে দ্রুত গ্রেফতার করতে না পারলে সে বাংলাদেশি সহযোগীদের নিয়ে কোনও জায়গায় নাশকতা করতে পারতো।

আরও পড়ুন:
ঢাকায় সিরিয়া ফেরত ‘আইএস জঙ্গি’ গ্রেফতার!

 

/টিটি/

লাইভ

টপ