সামরিক পোশাকে সাহায্য করা সভ্য রাষ্ট্রের চিত্র নয়: ড. মিজানুর রহমান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:১৩, মে ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৫, মে ১২, ২০১৯

সভ্য রাষ্ট্র বেসামরিকভাবে তার নাগরিকের সঙ্গে আদান-প্রদান ও আলাপ-আলোচনা করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি কোনও নাগরিককে সাহায্য করতে আসে, তখন রাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে ভদ্র বেশে উপস্থিত হয়ে নাগরিককে সাহায্য করতে হবে। কিন্তু সেখানে যদি সামরিক পোশাক পরে ও অস্ত্র নিয়ে গরীবদের সাহায্যের জন্য যাওয়া হয় বা কোনও হাসপাতালে গিয়ে চেক হস্তান্তর করা হয়, তাহলে তা কোনও সভ্য রাষ্ট্রের চিত্র প্রমাণ করে না। সভ্য রাষ্ট্র বেসামরিকভাবে বেসামরিক নাগরিকের সঙ্গে আদান-প্রদান করে, আলাপ-আলোচনা করে।’

শনিবার (১১ মে) ঢাকার ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে আদিবাসী অধিকার আন্দোলনকর্মী মঙ্গল কুমার চাকমার লেখা ‘বিবর্ণ পাহাড়: পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা ও সমাধান’ শিরোনামে গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে যেভাবে সংখ্যালঘুরা বিতাড়িত হচ্ছেন কিংবা দেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন তারই একটি প্রভাব পাহাড়ে রয়েছে। সেখান থেকেও যার যেভাবে সুযোগ হচ্ছে দেশ ত্যাগ করছেন। মানবাধিকার কাউন্সিলে বাংলাদেশ আবারও সদস্য হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আমরা গর্ববোধ ও অহংকার করি। কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে মানবাধিকারের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করবো, এরকম বিঘ্নিত আচরণ রাষ্ট্রের কাছ থেকে কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এরকম বিঘ্নিত আচরণ যে প্রতিনিয়ত হচ্ছে তা আমরা গণমাধ্যম থেকে জানতে পারি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর একটি জায়গায় সব নাগরিকদের বাঙালি বলা হয়েছে, আবার ২৩-এর ক ধারায় আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন নামে অবহিত করা হয়েছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কী করে বাঙালি বলে পরিচিত হবে এটি পরিষ্কার না। তাই যখন সংশোধনী আসবে তখন যেন নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন।’

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, পাহাড়ের অবস্থা ভালো না। সেখানে যারা অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রুখে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তাদের অবস্থাও আজ ভালো নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ যদি নষ্ট হয়, বন যদি উজাড় হয়ে যায় তাহলে সেটি শুধু পার্বত্যবাসীর নয় আমাদের কারোর জন্যই ভালো খবর হবে না। রাষ্ট্রকে তা দেখতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্র দিনদিন হৃদয়হীন হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র তার দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারছে না।

কবি সোহরাব হাসান বলেন, পাহাড়ে বিবর্ণতার দায় যেমন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের, আবার পাহাড়ে যে শান্তি আসেনি তার দায়ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। পাহাড়ে এখনও আধা-সেনা শাসন চালু রয়েছে।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রাখী দাস পুরকায়স্ত, বইটির প্রকাশক বটেশ্বর বর্ণন-এর পক্ষে বিলু কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

/সিএ/টিটি/

লাইভ

টপ