দেশের গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন, একান্ত সাক্ষাৎকারে তথ্যমন্ত্রী

Send
মাহবুব হাসান
প্রকাশিত : ২২:৩০, মে ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩০, মে ১৩, ২০১৯





তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদতথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করছে। বাংলাদেশে গণমাধ্যম যে পরিমাণ স্বাধীনতা ভোগ করে পৃথিবীর অনেক দেশেই তা নেই। এ ক্ষেত্রে তিনি সিঙ্গাপুর ও চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে গণমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করছে দাবি করে বলেন, তবে এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার যে বিষয়টি আছে সেটা নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, সংবাদ জগতের স্বাধীনতা যেমন প্রয়োজন সেইসঙ্গে দায়িত্বশীলতারও প্রয়োজন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই— এটা অনেকটা শ্লোগানের মতো বক্তব্য।
গত বৃহস্পতিবার (৯ মে) নিজ মন্ত্রণালয়ে বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে গণমাধ্যমের সার্বিক অবস্থাসহ সম্প্রচার আইন, গণমাধ্যমকর্মী আইন ইত্যাদি নানা বিষয়ে কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১৩ মে) বাংলা ট্রিবিউন পাঁচ বছর পূর্ণ করে ছয় বছরে পদার্পণ করলো।
সাংবাদিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে নবম ওয়েজবোর্ডের কাজ অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান হাছান মাহমুদ। বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড কমিটির চেয়ারম্যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন। তিনি যেদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন সেদিনই এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক ছিল। ফলে আর বৈঠকটি হয়নি। তবে আশার কথা হলো তিনি দ্রুতই দেশে ফিরবেন। তিনি ফিরে আসলে বৈঠক ডেকে নবম ওয়েজবোর্ডের বাকি কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।
তথ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন ড. হাছান মাহমুদ। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন পরিবেশবিদ ও শিক্ষক।
বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’ এবং ‘সম্প্রচার আইন’ চূড়ান্তের পথে। তিনি বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন হলে এমনিতেই সাংবাদিকের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। যেসব দিক ওয়েজবোর্ড কাভার করবে না সেগুলো এ দুটি আইনে অনেকটা কাভার হয়ে যাবে। এতে যেমন সাংবাদিকদের চাকরির সুরক্ষার দিকটি থাকবে, তেমনি থাকবে তাদের ন্যায্য দেনা-পাওনা নিশ্চিত করার বিষয়টিও।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন। তার অন্যতম বড় কারণ বিজ্ঞাপন বাইরে চলে যাওয়া। তাই তথ্য মন্ত্রণালয় শক্ত অবস্থান নিয়েছে যাতে বিজ্ঞাপন বাইরে চলে না যায়। আর সামাজিক গণমাধ্যম, ক্যাবল অপারেটর, ইউটিউব চ্যানেলসহ অন্যান্যভাবে যেসব বিজ্ঞাপন যাচ্ছে সেগুলোও নিয়ন্ত্রণে রাখবে সরকার। কেননা এসব বিজ্ঞাপনে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন যাতে বাইরে না যায় সেজন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে নির্দেশনা বাস্তবায়ন না হলে আইন প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাংবাদিককল্যাণ ফান্ড, সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যাসহ অন্যান্য ইস্যুতে তথ্য মন্ত্রণালয় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। ‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’ ও ‘সম্প্রচার আইন’ দুটি পাস হলে এ জগতে সবকিছু নিয়মনীতির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। সম্প্রচার আইনের মাধ্যমে অনলাইন গণমাধ্যমও শৃঙ্খলার মাধ্যমে পরিচালনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের চাকরির অনিশ্চয়তাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হঠাৎ করেই সাংবাদিকদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করা সমীচীন নয়। যদি ছাঁটাই করতে হয়, সেটা নিয়মনীতির মাধ্যমে করতে হবে, আর ছাঁটাই করা হলে তা যথাযথভাবে করতে হবে এবং ছাঁটাইয়ের পর পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। আর এ জন্য সার্বিকভাবে একটা নিয়মনীতির প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, এটা হতে হবে সাংবাদিকদের যেসব সংগঠন আছে সেগুলোর মাধ্যমেই। কেননা, চিকিৎসকদের নিবন্ধন দেয় চিকিৎসকদের প্রতিষ্ঠান। আইনজীবীরাও নিবন্ধন পায় তাদেরই সংগঠন থেকে। কাজেই সাংবাদিকদের এই ব্যবস্থায় নিয়ে আসতে হলে সেটা করতে হবে এ-সংক্রান্ত সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানগুলোকেই। তারা উদ্যোগ নিলে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
গণমাধ্যমের বিকাশসংক্রান্ত আরেক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ দেশে গণমাধ্যমের বিকাশে কোনও প্রতিবন্ধকতা নেই। ক্রমেই সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে। তবে যে হারে বেড়েছে সেই হারে গুণগত বৃদ্ধি হয়নি। তবে গণমাধ্যমের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কিছু জটিলতা এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। যেমন সবার আগে সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে ভুল সংবাদও পরিবেশন করা হচ্ছে, যেটি সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। পেশাদারিত্বেরও কিছু অভাব রয়েছে। তবে পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ, প্রেস কাউন্সিল এবং নিমকোসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে।
সিনেমা শিল্পের উন্নয়নে সরকার একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার সিনেমা হলগুলোর উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করছে। আর্ট ফিল্মের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সিনেমাতেও অনুদান দেওয়ার আলোচনা চলছে। সিনেমা হল মালিকদের দাবির প্রেক্ষিতে সীমিত আকারে ভারতীয় সিনেমা আমদানির অনুমতির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। আশা করি, পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব হবে।

/এইচআই/

লাইভ

টপ