বিএসএমএমইউ’র মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগ নিয়ে যত অভিযোগ

Send
তাসকিনা ইয়াসমিন
প্রকাশিত : ১৮:১১, মে ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:২১, মে ১৬, ২০১৯





বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চাকরিপ্রত্যাশী একটি অংশের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে— ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ, ৩২ বছরের বেশি বয়সী প্রার্থীদের নিয়োগের পাঁয়তারা এবং লিখিত পরীক্ষা না দিয়েও কয়েকজন প্রার্থীর উত্তীর্ণ হওয়ার কথা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে গত ১৩ মে লিখিতভাবে এসব অভিযোগ জানান। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ারও দাবি তোলেন তারা।


বিএসএমএমইউ’র মেডিক্যাল অফিসার (চিকিৎসক) নিয়োগে গত ২২ মার্চ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ মে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চাকরিপ্রত্যাশীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তোলেন। তারা বলছেন, পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় সাধারণ পরীক্ষার্থীদের দাবির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তদন্তেরও আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরে কোনও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ছাড়াই পরীক্ষা নেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনকারীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এর চেয়েও বেশি বয়সের একাধিক প্রার্থীর আবেদন বৈধ তালিকায় রয়েছে। তাদেরকে অবৈধভাবে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

চাকরিপ্রত্যাশীরা আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই অনেকের কাছে মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার রোল নম্বরসহ একটি তালিকার অনুলিপি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সবার মনে ক্ষোভ ও আশঙ্কা তৈরি হয়। কথিত তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ছেলে, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মেয়ের জামাইসহ অনেকেই রয়েছেন।

এছাড়া, পরীক্ষাকেন্দ্রের কয়েকটি কক্ষে মেডিক্যালের প্রশ্নে ডেন্টালের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণেরও অভিযোগ করেছেন তারা। তারা বলছেন, মোবাইলসহ অন্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে উত্তর সরবরাহ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ১১ জন চাকরিপ্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও উত্তীর্ণদের তালিকায় রয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডা. ফারজানা হক সুইটি, ডা. কাজী মেজবাহ উদ্দিন এবং ডা. আমেনা খাতুন— এই তিনজনের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করা হয়। তারা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তারা। পরীক্ষার হাজিরা খাতার শিটেও তাদের নাম ও স্বাক্ষর রয়েছে। পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার অভিযোগটি আসলে সত্য নয় বলেও এই তিন প্রার্থী দাবি করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডা. মাইদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ভিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করার জন্য গেছি। কিন্তু স্যারের অফিসের সামনের কলাপসিবল গেট বন্ধ ছিল। আমরা স্যারের দেখা পাইনি। বঙ্গবন্ধুর নামে হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কী কী অনিয়ম হচ্ছে, তা আমরা প্রধানমন্ত্রীকে জানাতে চাই।’

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। আমরা এখন মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

/টিটি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ