৩৯তম বিসিএসে নিয়োগ চান নন-ক্যাডারের ৮ হাজার চিকিৎসক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:০৭, মে ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৩, মে ১৭, ২০১৯

বেকার চিকিৎসকদের মানববন্ধন

সহকারী সার্জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে সর্বোচ্চ সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার চিকিৎসকেরা। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় ১৩ হাজার ১৫২ জন উত্তীর্ণ হলেও সেখান থেকে চার হাজার ৭৯২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাকি আট হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নিয়োগ না পাওয়া চিকিৎসকেরা সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের নিয়োগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর দেওয়া আবেদনে ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার চিকিৎসকেরা বলেন, ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩৩তম বিসিএস ও অ্যাডহকের মাধ্যমে ১১ হাজারের বেশি চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়। বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা বাড়ানো, নতুন নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক সংকট নিরসনের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে আরও ১০ হাজার চিকিৎসক দ্রুত নিয়োগের অনুমতি দেন। কিন্তু ৩৯তম বিশেষ বিসিএসে ১৩ হাজার ১৫২ জন উত্তীর্ণ হলেও এর মধ্যে মাত্র চার হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি। এতে উত্তীর্ণ আরও আট হাজার ৩৬০ জন চিকিৎসক বিপাকে পড়েছেন।’

অন্যদিকে পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি না করায় আট হাজারের বেশি চিকিৎসককে (নন-ক্যাডার) নিয়োগের সুপারিশ করতে পারেনি পিএসসি। ফলে সরকার বিভিন্ন সময়ে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আরও দুই হাজার ২৫০টি পদ বাড়ানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়। সেখান থেকেও চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ৩৯তম বিসিএস নন-ক্যাডারের চিকিৎসক মাসুদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নানা জটিলতায় পদের সংখ্যা বাড়ানোর অভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ আটকে যায়। ফলে আট হাজারের বেশি চিকিৎসক চরম হতাশায় ভুগছেন।’ চিকিৎসক সুজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের তো বলা হয়েছিল ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু পাস করার পরও পদ নিয়ে জটিলতায় আমরা নিয়োগ পাচ্ছি না। বলা হচ্ছে পদ খালি না থাকার কারণে আমাদের নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। এতে করে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে চার হাজার ৭৯২ জনকে নিয়োগ দিয়েছি। বাকিদের স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হবে। একসঙ্গে দশ হাজার চিকিৎসক নেওয়া হবে এমন কথা বলিনি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর গতকালও কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ধাপে ধাপে নেওয়ার জন্য। আমরা এবার আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিতে চেয়েছি। বলা হয়েছে এই মুহূর্তে পদ খালি নাই। আমরা বলেছি পদ খালি হবে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এতে রাজি হয়নি। তা না হলে আমরা সাত হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিতে পারতাম।’

তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। ৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণরা নিয়োগ পাওয়ার পরপরই আমরা পরেরটার জন্য প্রক্রিয়া শুরু করে দেবো। ৪০ ও ৪১তম বিসিএসে অতিরিক্ত কিছু ডাক্তার নেওয়া যায় কিনা সেই বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে।

/টিওয়াই/জেইউ/ওআর/

লাইভ

টপ