‘বাংলাদেশে বেড়েই চলেছে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগীর সংখ্যা’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:০১, মে ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০১, মে ১৮, ২০১৯

বাংলাদেশে দিন দিন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এটি একটি নীরব ঘাতক। এই রোগে আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই জানেন না, তার এই রোগ রয়েছে। এর ফলে তিনি এর চিকিৎসাও করান না। শুক্রবার (১৭ মে) বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে এসব কথা বলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘আপনার রক্তচাপ জানুন’।

অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, স্ট্রোক, হৃদরোগের মতো বড়ো সমস্যা দেখা দিলে রোগটি ধরা পড়ে। তখন দেখা যায়, রোগীর শরীরে বেশ ক্ষতি হয়ে গেছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ.ম. রেজাউল করিম বলেন, ‘ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল মালিকের সৎ প্রচেষ্টায় স্থাপিত অনন্য ও অসাধারণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ উপকৃত হচ্ছে। সেজন্য সমাজে যারা বিত্তবান আছেন তারাও এগিয়ে আসুন। আর্থিক সম্পত্তি না থাকলেও যাদের হৃদয়ের সম্পদ অনেক বড় তাদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘উচ্চ রক্তচাপ একবার ধরা পড়লে এর ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। কারণ ওষুধ বন্ধ করলে আবার রক্তচাপ বেড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। আর মাঝে মাঝেই ডাক্তারের কাছে ফলো আপের জন্য যাওয়া উচিত।’
বক্তারা আরও বলেন, ‘যেকোনও রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই জনসাধারণের উচিত উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ করা। উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি থেকে বাঁচেত লবণ খাওয়া কমাতে হবে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের সারাদিনে সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম বা এক চা চামচ লবণ খাওয়া উচিত। সেই সঙ্গে ওজন বেশি হলে ওজন কমাতে হবে, নিয়মিত হাঁটাচলা ও কায়িক পরিশ্রম করতে হবে এবং অবশ্যই ধূমপান ও তামাক থেকে দূরে থাকতে হবে বলে জানান বক্তরা।
এদিকে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে মে মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে রক্তচাপ পরিমাপ করা হচ্ছে। এছাড়াও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল চত্ত্বরে এদিন ফ্রি হাইপারটেনশন ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে উচ্চ রক্তচাপের বিভিন্ন তথ্যমূলক পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক বিগ্রেডিয়ার (অব) আব্দুল মালিক। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি বরদং জং রানা।

/টিওয়াই/এআর/

লাইভ

টপ