ছাত্রলীগের বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে তথ্য দিতে এসে হামলার শিকার পদবঞ্চিতরা

Send
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:৫৩, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৫৭, মে ১৯, ২০১৯

গণমাধ্যমের কাছে মারধরের বর্ণনা দিচ্ছেন হামলার শিকার ছাত্রলীগ কর্মীছাত্রলীগের কমিটিতে বিতর্কিত নেতাদের বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। শনিবার (১৮ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় পদবঞ্চিতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, পদবঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলতে রাত পৌনে ২টার দিকে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে আসেন ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। পদবঞ্চিতদের সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তারকে প্রশ্ন করেন ‘তুই আমার বিরুদ্ধে মাদক নেওয়ার বিষয়ে চ্যানেলগুলোতে কথা বলেছিস কেন’। লিপি আক্তার পাল্টা বলেন, ‘আপনারাও তো সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে খারাপ কথা বলেছেন। এটা আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি।’ পরে গোলাম রাব্বানী লিপিকে বেয়াদব বলে গালি দেন। লিপি আক্তার গালির প্রতিবাদ করেন এবং সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন।

এসময় গোলাম রাব্বানীর অনুসারীরা লিপি আক্তার ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি শ্রাবণী শায়লা ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা পারভীন, ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সহ-সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহসহ অন্যদের ওপর হামলা চালান।

পদবঞ্চিতরা অভিযোগ করেছেন, টিএসসির ভেতরে দুই ধাপে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় নারীনেত্রীসহ ১৫ জন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী আহত হন।

হামলার পর পদবঞ্চিতরা টিএসসি থেকে বেরিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নেন। তারা ঘটনার প্রতিবাদে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় তারা গোলাম রাব্বানীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের কমিটিতে না থাকারও ঘোষণা দেন। বিতর্কিতদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ দিতে এসে হামলার শিকার হওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ও তার কাছে বিচার চান।

পরে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টিএসসি থেকে বেরিয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসেন। তারা ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের অবস্থান ছেড়ে হলে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন ও সবকিছুর সুষ্ঠু সমাধানের কথা বলেন।

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এসময় হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে হামলার শিকার নেতাকর্মীরা তাতে রাজি হননি। পদবঞ্চিতরা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস না পেলে তারা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

ভোর সাড়ে চারটা পর্যন্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, তাদের অনুসারী এবং ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের রাজু ভাস্কর্যের সামনে দেখা গেছে।

পদবঞ্চিতদের নেতৃত্বে থাকা গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রমাণ দিতে গেলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমাদের বোন বিএম লিপি আক্তারকে চড় দেন। পরে তার অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালান।’

তাদের সঙ্গে আলোচনায় কী কথা হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল বিতর্কিত যে ১৭ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে তাদের বহিষ্কার করতে হবে। যে ৯৯ জনের নাম আমরা প্রকাশ করেছি তাদের মধ্যে ৪০ জনের বিষয়ে আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানয়েছি আমরা।’

তবে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী দাবি করেন, কারও গায়ে হাত তোলা হয়নি। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী কমিটিকে কেন্দ্র করে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে। আজ কারও গায়ে হাত তোলা হয়নি। সিন্ডিকেটের নির্দেশে নাটক সাজিয়ে তারা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে।’

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

 

 

আরও পড়ুন:
হামলার বিচার দাবিতে আমরণ অনশনে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

/টিটি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ