অনুমতিহীন কালো কাচের মাইক্রোবাসে ফের অপহরণ

Send
আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ১০:০৪, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২০, মে ২০, ২০১৯

কালো কাচের মাইক্রোবাস

অনুমতিহীন কালো কাচের মাইক্রোবাসে ফের অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এসব মাইক্রোবাসে কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে, কোথাও জোর করে মানুষকে তুলে নিতে দেখা গেছে। তবে পুলিশ ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) দাবি, যেসব গাড়িতে কালো কাচ লাগানো হয়, সেগুলো বিআরটিএ থেকে ফিটনেস অনুমতি পায় না। স্বচ্ছ কাচের গাড়ির ফিটনেস নিয়ে যারা পরবর্তী সময়ে কালো কাচ লাগায়, তাদের বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।

রাজধানীর মিরপুর ও তেজগাঁও থেকে একমাসের ব্যবধানে দুই প্রকৌশলীকে কালো কাচের মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। গত ১ এপ্রিল মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার কর্মস্থল থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন সফটওয়্যার প্রকৌশলী কামরুল হাসান। আর কম্পিউটার প্রকৌশলী আতাউর রহমান শাহীনকে ২ মে তুলে নেওয়া হয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থেকে। প্রথম ঘটনায় পল্লবী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পরের ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দু’টি ঘটনায় অপহরণকারীরা কালো কাচযুক্ত সাদা রঙের মাইক্রোবাস ব্যবহার করে।

আতাউর রহমান শাহীনকে তুলে নেওয়ার ঘটনাটি তেজগাঁওয়ের সড়কের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, শাহীনকে চার জন লোক ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। এরপর কালো কাচের মাইক্রোবাসটি দ্রুত চলে যায়।

এই দুটি অপহরণের ঘটনার পর ফের কালো কাচের মাইক্রোবাস আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন অনুযায়ী কালো কাচের মাইক্রোবাস নিষিদ্ধ হলেও গাড়ির মালিকরা প্রায়ই স্বচ্ছ কাচ পরিবর্তন করে কালো কাচ লাগিয়ে দেন।

এর আগে, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে সারাদেশে কালো কাচের মাইক্রোবাসে অপহরণ বেড়ে গেলে ২০১৪ সালের ৬ মে মাইক্রোবাসসহ সব ধরনের যানবাহন থেকে কালো কাচ খুলে ফেলতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপহরণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংঘটনে অপরাধীরা গাড়িতে বিশেষ করে মাইক্রোবাসে কালো, রঙিন, মার্কারি, অস্বচ্ছ গ্লাস ব্যবহার করছে। বিষয়টির প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১৪ মে আইনজীবী মনজিল মোরশেদ হাইকোর্টে একটি রিট করেন। হাইকোর্ট গাড়িতে কালো গ্লাস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। স্থিতাবস্থা জারির পাশাপাশি আদালত বিআরটিএ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে প্রাইভেট কারে কালো গ্লাস ব্যবহার করা যাবে বলে আদেশ দেন। যে কেউ কালো গ্লাস ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বিআরটিএ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারবেন। ওই আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে গাড়ির মালিক, পুলিশ ও বিআরটিএ—এই আদেশ কেউ মানেনি।

রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, ‘আদালতের আদেশ আমাদের পক্ষেই হয়েছিল। তখন কালো কাচ ব্যবহার সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছিল। পুলিশ সে অনুসারে পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বিষয়টি ওই অবস্থাতেই রয়েছে।’

বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে কালো কাচের অসংখ্য মাইক্রোবাস ও গাড়ি সড়কে চলতে দেখা যায়। এসব গাড়ির আসল স্বচ্ছ কাচ পরবর্তন করে পরবর্তী সময়ে কালো কাচ লাগানো হয়েছে বলে মনে করছে বিআরটিএ। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক (প্রকৌশলী) লোকমান হোসেন উল্লাহ বলেন, ‘গাড়ি তৈরির সময় যে কাচ থাকে, সেই গ্লাস দিয়েই বিআরটিএ থেকে গাড়ির ফিটনেসসহ অন্যান্য কাগজপত্র নিতে হয়। কেউ কাচ চেঞ্জ করে এলে তাকে ফিটনেস সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র দেওয়া হয় না।’

লোকমান হোসন বলেন, ‘যেসব গাড়িতে কালো কাচ দেখা যায়, সেগুলো মালিকদের নিজেদের ইচ্ছায় লাগানো। এসব তারা নিজেরাই করেছেন। আমাদের কাছ থেকে কেউ অনুমতি নিয়ে কালো কাচ লাগান না।’

এদিকে, মাইক্রোবাসে কালো কাচ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম। তিনি বলেন, ‘কালো কাচের মাইক্রোবাসের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই প্রসিকিউশন হচ্ছে।’ এটি চলমান প্রক্রিয়া বলেও তিনি জানান।

/এমএনএইচ/এমএমজে/

লাইভ

টপ