বারিধারায় এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী খুনের নেপথ্যে ‘বিয়ে ভেঙে যাওয়া’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩০, মে ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩২, মে ১৯, ২০১৯

আটক কফিলরাজধানীর ভাটারার বারিধারায় এটিএম বুথের ভেতরে এলিট ফোর্স সিকিউরিটির নিরাপত্তাকর্মী মো. শাহীনকে (২২) তারই কোম্পানির অপর এক নিরাপত্তাকর্মী খুন করে। এ হত্যার নেপথ্যে অন্যতম কারণ বিয়ে ভেঙে যাওয়া। রবিবার (১৯ মে) দুপুরে শাহীনকে হত্যার প্রায় চার মাস পর মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন জানান, শামীম কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি থানার ধনিরামের ছেলে। তার বাবা নজুল ইসলাম। ঢাকায় নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহ প্রতিষ্ঠান এলিট ফোর্স সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠানে ৬/৭ বছর ধরে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। গত ২১ জানুয়ারি বারিধারা যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন অবস্থায় খুন হন। এই ঘটনায় ভাটারা থানায় মামলা করেন শামীমের বাবা। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। এটিএম বুথের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থাকলেও খুনি ছিল মুখোশ পরা। তাই তাকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। মামলাটি গত ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ মার্চ পর্যন্ত ভাটারা থানা পুলিশ তদন্ত করে। এরপর ডিবি পুলিশ গত ১৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত মামলা তদন্ত করে। ৩ এপ্রিল থেকে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে।
যমুনা ব্যাংকের এটিএম বুথের ভেতরে শামীমের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পিবিআই প্রযুক্তি ব্যবহার ও সিসি টিভির ক্যামেরা ফুটেজ দেখে শামীমের গ্রামের বাড়ি থেকে গত ১৫ মে কফিল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। সে শামীমের সঙ্গে এলিট ফোর্স কোম্পানিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতো। গ্রেফতারের পর পিবিআইয়ের কাছে প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করে কফিল। এরপর ১৭ মে আদালতেও জবানবন্দি দেয়।
পিবিআই জানায়, কফিল ও শামীম প্রতিবেশী, সম্পর্কে ভাই। শামীম এলিট ফোর্সে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ২০১৮ সালে কফিলকে ঢাকায় আনে। কফিল ঢাকায় এসে সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে শামীমের বাসায় উঠে। শামীম কফিলকে এলিট ফোর্সে চাকরি নিয়ে দেয়। কফিল চাকরি করা অবস্থায় শামীমের বাসায় এক মাস থাকে। পরবর্তীতে কফিল শামীমের বাসা ছেড়ে ভাটারা থানার নয়ানগর মুন্সিবাড়ি এলিট ফোর্সের জোন কমান্ডার শাহীনের মেসে উঠে।
হত্যায় ব্যবহৃত সরঞ্জামসেখানে থাকাকালীন সাবিনা নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সাবিনা তার ছোট বোন শাহানার সঙ্গে কফিলের বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কফিল সাবিনার প্রস্তাবে রাজি হয়। পরবর্তীতে সাবিনার স্বামী আব্দুল মালেক কফিলের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামে যায়। সেখানে সাবিনার স্বামী আব্দুল মালেক কফিলের বাড়ির খোঁজ নেয়। সাবিনা ও তার স্বামী আব্দুল মালেক বিয়ের চূড়ান্ত কথা বলার আগে কফিলের বিষয়ে শামীমের কাছে আরও খোঁজ নেয়। শামীম তখন তাদের জানায়- কফিলের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। এরপর বিয়ে ভেঙে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কফিল শামীমকে খুন করার পরিকল্পনা করে।

যেভাবে হত্যা করা হয়
ঘটনার ২ থেকে ৩ দিন আগে কফিল ভাটারা থানার নতুন বাজার থেকে শামীমকে হত্যা করার জন্য হাতুড়ি, সাদা প্যান্ট, জ্যাকেট ও মুখোশ কিনে একটি ব্যাগের ভেতরে লুকিয়ে রাখে। ঘটনার দিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কফিল গুলশান-২ এর গোল চত্বরের সামনে ইউসিবি বুথে ডিউটি করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কফিল ইউসিবি বুথে ডিউটিতে যাওয়ার সময় ব্যাগে করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি ও মুখোশ সঙ্গে নিয়ে যায়। কফিল বারিধারার জে-ব্লকের ইউসিবি বুথে ডিউটিতে যায় এবং শামীম বারিধারা জে-ব্লকের যমুনা ব্যাংকে বুথে ডিউটিতে যায়। একই এলাকায় পাশাপাশি এটিএম বুথে ডিউটি করে। কফিল ভোরে ঘুম থেকে উঠে এটিএম বুথের ছাদ থেকে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাখা ব্যাগটি নিয়ে কিছু দূর সামনে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করে এবং ব্যাগ থেকে হাতুড়ি ও মুখোশটি নেয়। এরপর বারিধারার জে-ব্লকে শামীমের যমুনা ব্যাংকের বুথে যায়। সেখানে শামীম চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিল। কফিল পকেট থেকে হাতুড়ি বের করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘুমিয়ে থাকা শামীমের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পাঁচটি আঘাত করে। তারপর কফিল যমুনা ব্যাংকের ভেতরের ক্যামেরা ভেঙে বুথ থেকে বের হয়। পরবর্তীতে কফিল সবার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করে এবং শামীমের মরদেহ ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামে নিয়ে যাওয়া, দাফনসহ সব কাজে সহযোগিতা করে। হত্যার পর কফিল এলিট ফোর্সের চাকরি ছেড়ে দেয়। এমনকি বকেয়া বেতন ও বোনাসের টাকা নেওয়ার জন্য পর্যন্ত ঢাকা আসেনি।

 

/এআরআর/ওআর/

লাইভ

টপ