বিএসএমএমইউ-তে মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা ‘পরীক্ষা বাতিলের কোনও যৌক্তিক কারণ নেই’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০২:১৮, মে ২৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮, মে ২৫, ২০১৯

বিএসএমএমইউবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম বলেছেন, ‘মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণের অবকাশ নেই। এই পরীক্ষা বাতিলের আমরা কোনও যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাইনি। আমরা এখন ভাইভা পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব এ তারিখ ঘোষণা করা হবে।’
বিএসএমএমইউ-তে মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে যে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সেগুলোকে আংশিক ভিত্তিহীন উল্লেখ করে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা বলেন।
বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ‘কেউ যদি আমাদের দেখাতে পারতো, প্রশ্নফাঁস হয়েছে তাহলে আমরা এই পরীক্ষা বাতিল করতাম। পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছিল, পরীক্ষার চার দিন আগে প্রশ্নের প্যাকেট খোলা হয়েছে। আমরা এমন কোনও প্রমাণ পাইনি। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখেও এমন কিছু পাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্ররা যেসব অভিযোগ করছে আমরা ঢালাওভাবে তাদের সব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলিনি। পয়েন্ট ধরে বলেছি, যেগুলো আমাদের নজরে এসেছে। এরমধ্যে যেমন এক জায়গায় আছে, একজন বয়স কমিয়ে লিখেছিল। তার বয়স গোপন করাটা আমরা অনৈতিক বলে মনে করেছি। তার নামে আমরা শাহবাগ থানায় জিডিও করেছি। আরেকজন আগেই ধরা পড়ায় তাকে আমরা পরীক্ষায় বসতে দেইনি।’
ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, ‘মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই কোনও একটি বিশেষ কক্ষে প্রশ্নপত্র খোলার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ওভারঅল পরীক্ষার কমিটিতে প্রশাসন যুক্ত থাকে। এই পরীক্ষায় আমার নিজের মেয়ে পরীক্ষা দিয়েছে, সে টিকেনি। আমাদের অনেক অধ্যাপকের সন্তান পরীক্ষা দিয়েও চান্স পায়নি।’
ডেন্টালের শিক্ষার্থীদের মেডিক্যালের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আংশিক সত্য। বিভিন্ন গ্রুপে যখন প্রশ্ন দেওয়া হয় এক গ্রুপের প্রশ্ন অন্য কারও কাছে চলে যেতে পারে। এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটেছিল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে রিপ্লেস করে যারটা তাকে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।’
প্রশ্নপত্র আউট হওয়া প্রসঙ্গে উপ-উপাচার্য বলেন, ‘ছাত্ররা বলেছিল, প্রশ্নপত্র আউট হয়েছে। আমরা সেই প্রশ্ন দেখাতে বলেছি। তারা দেখাতে পারেনি।’
মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর পর সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু তারা নিয়োগ পেলেও এটি এখন আটকে আছে। এখানে কি তরুণ চিকিৎসকদের সঙ্গে সিনিয়রদের কোনও দ্বন্দ্ব কাজ করছে এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রো-ভিসি বলেন, ‘সিনিয়র নার্স একসঙ্গে অনেকজন সরকারি চাকরিতে যোগদান করায় পদশূন্য হয়েছে। তাদের আমরা দ্রুত সময়ে নিয়োগ দিয়েছি। আর মেডিক্যাল অফিসারের কাজটা আমাদের রেসিডেন্ট অফিসাররা করতে পারে। তাই এই বিষয়ে চাপ একটু কম। তাছাড়া, তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি আমাদের আন্তরিকতার কোনও ঘাটতি নেই।’
উল্লেখ্য, বিএসএমএমইউ’র মেডিক্যাল অফিসার (চিকিৎসক) নিয়োগে গত ২২ মার্চ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১২ মে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জানিয়ে এ ফল বাতিলের দাবিতে ছাত্ররা আন্দোলন করছে। গত ১৮ মে এ পরীক্ষার ফল বাতিলের দাবি জানিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে চিকিৎসকরা। এ নিয়ে তারা হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে।
এসময় তারা দাবি করেন, ‘কমপক্ষে ৬টি সুস্পষ্ট ও নজিরবিহীন অনিয়ম করা হয়েছে পরীক্ষায়।’

/টিওয়াই/এআর/

লাইভ

টপ