ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: দালাল রফিক ধরা পড়েনি, পারভেজ লিবিয়ায়

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ০৮:০০, মে ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, মে ২৬, ২০১৯

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি (ফাইল ফটো)ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৩৭ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের দুই মামলার একটিতে শরীয়তপুরের দালাল আক্কাস মাতুব্বরকে গত ১৭ মে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে র্যা ব। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয় সিলেটের ইয়াহিয়া ওভারসিজের মালিক এনামুল হক তালুকদার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া।
তবে সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে দায়ের করা মামলায় এখনও গ্রেফতার হয়নি দালাল রফিকুল ইসলাম। পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে সে।
রফিকুলকে প্রধান আসামি করে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে। মামলাটি করা হয় গত ১৬ মে।

দালাল পারভেজ লিবিয়ায়
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ফিরে আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বছরখানেক ধরে রফিক এলাকায় বিদেশে লোক পাঠানোর ব্যবসা করছে। সিলেটের বিশ্বনাথ থানার বৈরাগিবাজারের নদার গ্রামে তার বাড়ি। রফিকের ছেলে পারভেজ লিবিয়ার ত্রিপলিতে থাকে। পারভেজের সেখানে থাকার সুবাদে রফিক বিদেশে লোক পাঠানোর কাজ শুরু করে। লিবিয়ায় পারভেজের সঙ্গে কাজ করে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ও লিবিয়ান নাগরিক। সেখানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে পারভেজ। সেই বাসাতেই ইতালি পাঠানোর জন্য মানুষদের রাখা হয়। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছে রফিকুলের মেয়ে ও পারভেজের বোন অনন্যা। পারভেজের বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই লেনদেন হয়।
পরিবারসহ লাপাত্তা রফিকুল
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় বেঁচে ফিরে আসা ভুক্তভোগী সিলেটের সাইদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দালাল রফিকের সঙ্গে ফোনেই পরিচয়। কথায় কথায় একবার ইতালি পাঠানোর কথা বলে। তার ছেলে পারভেজ লিবিয়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। সেখানে নাকি কাজ করে এবং ইতালি প্রায়ই যায় আর লোকও পাঠায়—এ কথাও বলছিল আমাকে।’
তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকার মতো দেওয়া হইছে তাকে। রফিকের কাছে পুরা টাকাই দেওয়া হইছে। আমার এতগুলা টাকা গেছে, আমি মামলা করবো তার নামে। রফিকের বাড়ি আমার বাড়ির কাছেই। ও এলাকায় নাই, পুরা পরিবার নিয়ে পালায় গেছে।’
গ্রেফতারে অভিযান চলছে
সিলেটের বিশ্বনাথ থানায় দায়ের মামলায় রফিকুল ছাড়া অন্য আসামিরা হলো রফিকুলের ছেলে বর্তমানে লিবিয়ায় বসবাসকারী পারভেজ আহমদ (২৮), মেয়ে অনন্যা প্রিয়া ওরফে পিংকি, গোলাপগঞ্জ উপজেলার পুনাইরচর গ্রামের আব্দুল খলিলের ছেলে ও সিলেট রাজা ম্যানশনের ইয়াহইয়া ওভারসিজের কর্মকর্তা এনামুলক হক তালুকদার (৪৫) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সড়াইল থানার ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ভূইয়ার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ভূইয়া (৩৪)। এদের মধ্যে র্যা্বের হাতে গ্রেফতার হয়েছে এনামুল ও আব্দুর রাজ্জাক ভুঁইয়া।
বিশ্বনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসামি রফিককে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। এখনও আমরা ট্রেস করতে পারিনি। তার ছেলে পারভেজ লিবিয়ায় আছে—এটুকু জানা গেছে।’
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেটের (সার্কেল) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রফিককে এখনও ধরা যায়নি, তবে চেষ্টা চলছে। পারভেজ লিবিয়ায় আছে, তার বোনও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে তদন্তে জানা গেছে। নৌকাডুবির ঘটনার পর তারা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।’

আরও পড়ুন: ইউরোপের পথে পাচারকারীদের মরণ 'গেম’

               আস্থা পেতেই ইতালি পৌঁছানোর পর টাকা নেয় দালালরা

 

/এইচআই/

লাইভ

টপ