কোচিং বাণিজ্য: তিন মাসেও শেষ হয়নি ১০ কার্যদিবসের তদন্ত

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ২৩:০৬, মে ২৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১১, মে ২৭, ২০১৯

কোচিং বাণিজ্যগাজীপুরের কাপাশিয়া উপজেলার ঈদগাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। পরবর্তী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রতি নির্দেশ ছিল। কিন্তু ওই নির্দেশের পর তিন মাস পার হয়ে গেলেও এই তদন্ত শুরু হয়নি। এমনকি মূল তদন্ত কর্মকর্তা জেলা শিক্ষা অফিসার অন্য একজন শিক্ষা অফিসারকে দায়িত্ব দিলেও তদন্তের বিষয়ে কিছুই মনে নেই তার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঈদগাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ইস্তাকবালুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কোচিং-বাণিজ্যের অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা নিয়াজুল ইসলাম খান শামীম। এই অভিযোগের পর গত বছর ১০ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে (মাউশি)। মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশের পর চলতি বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি মাউশি থেকে গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট অভিমতসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।  

তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘আমি কাজের চাপে থাকায় কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাকিব হাসানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছি। কাজের চাপে আমি ভুলে গিয়েছিলাম। তিনি এখনও আমাকে প্রতিবেদন দেনননি, দিয়ে দেবেন। তার (কাপাসিয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার) সঙ্গে কথা বলছি।’

কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রাকিব হাসানের কাছে তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন বিষয়ে তদন্ত তা জেনে প্রথমে নিশ্চিত হন। পরে বলেন, ‘আমি ট্রেনিংয়ে আছি। ফিরে গিয়ে খোঁজ নেবো।’

তদন্ত নিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, ‘জেলা শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত করার নির্দেশ দিলে তিনি অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন না। এমনটা হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কেন তদন্তে দেরি সে বিষয়টিও দেখা হবে।’   

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্যের বন্ধে ২০১২ সালে নীতিমালা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার কোনও শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। তবে এই নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দাখিল করেন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা। দীর্ঘদিন পর চলতি বছর আদালত সরকারের নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করেন।  নীতিমালাও গেজেট আকারে প্রকাশ করে মন্ত্রণালয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক ইস্তাকবালুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকারি বিধিবিধানের বাইরে আমি কোচিং করাই না।’ শত্রুতা করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

/এমএনএইচ/

লাইভ

টপ