পরোয়ানা পুলিশের হাতে, গ্রেফতার কবে?

Send
জামাল উদ্দিন ও রফিকুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০:২৩, জুন ০৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৮, জুন ০৪, ২০১৯

সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা পৌঁছেছে ফেনী পুলিশের হাতে। গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পেলেও ‍ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে কোনও উদ্যোগ নেয়নি পুলিশ। পরোয়ানাটি আবারও সংশ্লিষ্ট আদালতের উদ্দেশে ফেরত পাঠিয়ে বলা হয়েছে, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন এখন ফেনীতে নেই। তাকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। তার কর্মস্থলের ঠিকানা দিয়ে ঢাকার সাইবার আদালতে একটি চিঠিও পাঠানো হয়েছে ফেনীর পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে।

ফেনীর সোনাগাজী থানা থেকে গত ১০ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। সেখান থেকে তাকে ফেনীর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়। কয়েকদিন পর ফেনী থেকে তাকে বদলি করা হয় রংপুর রেঞ্জ অফিসে। পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত দল ওসি মোয়াজ্জেমসহ চার জনের দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ এনে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী, গত ৮ মে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি রংপুর রেঞ্জ অফিসে যোগ দেন। প্রায় এক সপ্তাহ তিনি সেখানে অফিসও করেন। কিন্তু গত ২৭ মে’র পর ঢাকায় সাক্ষ্য দেওয়ার নাম করে আর রংপুর ফেরেননি বলে জানান সেখানকার পুলিশ কর্মকর্তারা।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল থেকে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর তিনি ঢাকায় পুলিশ সদর দফতরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় আসেন। এরপর থেকে তিনি কোথায় আছেন, সেই তথ্য নেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে। তবে গ্রেফতারি পরোয়ানা হাতে পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতারে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ফেনীর এসপি কাজী মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সাইবার ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা তারা হাতে পেয়েছেন। কিন্তু ওসি মোয়াজ্জেম তো এখন ফেনীতে নেই। তিনি রংপুর রেঞ্জে বদলি হয়ে চলে গেছেন। এই বিষয়গুলো জানিয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালের কাছে গ্রেফতারি পরোয়ানা ফেরত পাঠিয়েছি।’

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের অবস্থানের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মামলার বাদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন বলেন, ‘এসপি আদালতের কাছে যা-ই পাঠান সমস্যা নেই। আমরা আদালতের কাছে যা বলার বলবো। ওসি মোয়াজ্জেম তো ১১ জুন আগাম জামিনের জন্য আদালতে আসতে চায়। হয়তো সে কারণেই। তবে, এতে পুলিশ প্রশাসনের ওপর চাপ পড়বে। আমরা মনে করি, তাকে না ধরার জন্য পুলিশ প্রশাসনের এক ধরনের পাঁয়তারা চলছে।’

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘এসপি যদি আদালতের পরোয়ানা গ্রহণ করে থাকেন, তাহলে এটা তো ব্যাডমিন্টন খেলা নয় যে, একদিক থেকে ফ্লাওয়ার মারলে সেটা আবার উল্টো দিকে দিতে হবে। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের জন্য। গ্রেফতারের জন্য কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেটা তিনি বলবেন। আর যদি বলেন তিনি এখানে নেই, তাকে পাচ্ছি না, এটা তো কোনও কথা নয়। ঠিক আছে, আদালত না হয় পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা নতুন ঠিকানায় পাঠাবেন। অসুবিধা কী? এখন ওসি মোয়াজ্জেমকে যদি পুরো পুলিশ বিভাগ খুঁজে না পায়, তাহলে কী করার আছে?’ তিনি বলেন, ‘এমন একটি গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামি যদি আপনি হতেন, তাহলে পুলিশ আপনাকে কোত্থেকে বের করে আনতো আপনি জানেন। দেখা যেতো ফুপা শ্বশুরের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে এসেছে। এটা পরিষ্কার।’

যৌন হয়রানির বিষয়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির বক্তব্যের একটি ভিডিওধারণ ও তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল আইনে মামলাটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। তখন তাকে কৌশলে মাদ্রাসাটির সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। এর আগে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ এ ব্যাপারে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

/এমএনএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ