‘ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতার করায় পুলিশের ভাবমূর্তি ফিরেছে’

Send
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:১৯, জুন ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৪, জুন ১৬, ২০১৯

ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন (ফাইল ফটো)অবশেষে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করায় পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ফেনীর সচেতন নাগরিকেরা । তারা মনে করছেন, দেরিতে হলেও তাকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে পুলিশ তার ভাবমূতি ও মর্যাদা রক্ষা করেছে। রবিবার (১৬ জুন) রাজধানীর শাহবাগ থেকে পরোয়ানা জারির ২০ দিন পর গ্রেফতার হন ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন। তার গ্রেফতারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয়রা।
ফেনী আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি, প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম ভূঞা বাংলা ট্রিবিউন বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, পুলিশ চাইলে কোনও আসামিই পালিয়ে থাকতে পারে না, ধরা তাকে দিতেই হবে। ওসি মোয়াজ্জেমকে দেরিতে হলেও গ্রেফতার করা হয়েছে। দেরিতে হলেও তাকে গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে পুলিশ তার ভাবমূতি ও মর্যাদা রক্ষা করেছে। এখন আমরা আশা করি দেশে সবার জন্য যে আইন পুলিশের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে।’
কবি ও সংবাদকর্মী সাহিদা সাম্য লীনা বলেন, ‘বিভাগীয় শাস্তির নামে অপরাধের জন্য পুলিশকে যেসব শাস্তি দেওয়া হয় তা আসলে কোনও ধরনের শাস্তিই নয়। এমনটাই ঘটছে পুলিশ সদস্যদের অপরাধের ক্ষেত্রে। এছাড়া পুলিশের কোনও সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের বিধান থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা কার্যকর হচ্ছে না । নুসরাত হত্যায় অবহেলার দায়ে অভিযুক্ত সকল কর্মকর্তাকে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করতে হবে।’
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “নুসরাত হত্যায় অভিযুক্তদের ‘বিভাগীয় শাস্তির আওতায়’ আনার কথা বলে আড়াল করা হচ্ছে। এই তদন্তে অভিযুক্তদের অনেকের নাম আসেনি। শুধু তাই নয়, পুলিশের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত এবং বিচার করে পুলিশ। ফলে ওসি মোয়াজ্জেমসহ তার সহযোগীরা যাতে এই ধরনের অপরাধ করে পার পেয়ে না যায় আদালত সেই বিষয় দিকনির্দেশনা দেবেন বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে ।”
উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাপসাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান। এর আগে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন তিনি। এ ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা দায়ের করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। এরপর ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ওই আদালত।

আরও পড়ুন: ঢাকায় খালার বাসায় ওসি মোয়াজ্জেমের ‘পলাতক’ জীবন

              মোয়াজ্জেম যতটুকু অপরাধ করেছেন ততটুকু শাস্তি হোক: নুসরাতের মা

            ওসি মোয়াজ্জেম ঢাকায় গ্রেফতার

            বাঁচানো গেলো না নুসরাতকে

           এতদিন জামিনের আশায় ছিলেন ওসি মোয়াজ্জেম

         

 

 

 

/ওআর/

লাইভ

টপ