বারিধারা থেকে ৭ প্রতারককে গ্রেফতার

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:০০, জুন ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৯, জুন ১৬, ২০১৯

বারিধারা থেকে সাত প্রতারককে গ্রেফতার



রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে একটি প্রতারক চক্রের ৭ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৪।  শনিবার (১৫ জুন) দুপুর থেকে রবিবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অস্তিত্বহীন বিভিন্ন ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির নামে জেলাভিত্তিক ডিলারশিপ নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।



রবিবার (১৬ জুন) বিকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র এএসপি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল। 

আটককৃত প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলো মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮), রোকসানা আক্তার (২৮), মো. আব্দুর রহিম (৪৯), বাচ্চু মিয়া (৪৮), মাহবুব রহমান (৪০), অমরেশ চন্দ্র ঘোষ (৫৬), এবং তরিকুল ইসলাম (২২)।

এসময় তাদের কাছ থেকে অনুমোদনহীন বিভিন্ন কোম্পানির নামে ছাপানো লিফলেট, পণ্যের লেভেল এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার ও কোমল পানীয় সামগ্রী জব্দ করা হয়। 

এএসপি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে প্রতারক এই চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়। সংবাদপত্র, অনলাইনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চক্রটি অস্তিত্বহীন বিভিন্ন ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির নামে জেলাভিত্তিক ডিলারশিপ নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছিল। এরপর আগ্রহীদের উচ্চহারে কমিশনের লোভ দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা প্রতারণা করার বিষয়টি স্বীকার করেছে। 


তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে জানায়, প্রথম ধাপে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় অফিস ভাড়া করে এবং জাঁকজমকপূর্ণ ডেকোরেশন করে। যা গ্রাহককে আকৃষ্ট করার মতো। সুন্দর আচরণ ও গাম্ভীর্য বজায় রেখে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতো। দ্বিতীয় ধাপে চক্রটি সংবাদপত্র, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোম্পানির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতো। বিজ্ঞপ্তিতে তারা একেক সময় একেক কোম্পানির নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করতো। 

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছে এক কোম্পানির এমডি বা প্রডাকশন ম্যানেজার হয়ে যায় অন্য কোম্পনির সিইও এবং এক কোম্পানির অ্যাডভাইজার হয়ে যায় অন্য কোম্পানির চেয়ারম্যান। জেলাভিত্তিক ডিলারশিপ নিয়োগের চূড়ান্ত কথাবার্তা শেষে প্রতারকচক্রটি ইচ্ছুক ব্যক্তিদের চুক্তির আশ্বাস দেয় এবং বিভিন্ন ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জামানত হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা রাখতে বলে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিলে পণ্য সরবরাহে টালবাহানা শুরু করে। এরপর চক্রটি অফিস গুটিয়ে কোম্পানির নাম বদলে নতুন ঠিকানায় চলে যায়। নতুনভাবে শুরু হয় তাদের প্রতারণা। এভাবেই চক্রটি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 

আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এই কর্মকর্তা। 


/এসজেএ/এনএল/টিএন/

লাইভ

টপ