উবার চালক হত্যা মামলা ডিবিতে, যাত্রী রাফিকে খুঁজছে পুলিশ

Send
শেখ জাহাঙ্গীর আলম
প্রকাশিত : ০০:৪৭, জুন ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৭, জুন ১৮, ২০১৯

উবার চালিত কাররাজধানীর উত্তরায় উবার চালক মো. আরমান (৪২) হত্যাকাণ্ডের চারদিনেও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। তার গাড়ির সর্বশেষ যাত্রীর নাম-ঠিকানা পেলেও তাকে এখনও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে পারেনি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। তাই মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি তপন চন্দ্র সাহা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উবার চালক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনও কোনও অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। সোমবার (১৭ জুন) এই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাত ২টায় রাজধানীর উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কের ৫২ নম্বর বাড়ির সামনে একটি গাড়ির (ঢাকা মেট্রো- গ-২৫-৪৫৪৫) ভেতর থেকে উবার চালক (স্মার্টফোনে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা) মো. আরমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরদিন উত্তরা পশ্চিম থানায় নিহতের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আরমান পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার ফতে মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা। মিরপুর-১১ নম্বরের ১২ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর লেনের ১৬ নম্বর বাড়িতে স্ত্রী রাবেয়া খাতুন ও দুই সন্তান ছেলে নাঈম (৯) ও এক বছর বয়সের মেয়ে আফরিন আক্তারকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

মামলার প্রাথমিক তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীন মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৩ জুন রাত ১১টা ২১ মিনিটে উবারে কল পেয়ে রামপুরার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে রাফি নামের এক যাত্রীকে নিয়ে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে আসেন চালক আরমান। ১২টার পর ওই যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের ধারণা ওই রাত ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে, ওই যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা গেলে হয়তো কিছু ক্লু পাওয়া যেত।’ 

নিহতের পরিবার দাবি করছে, আরমানের পূর্ব কোনও শত্রু নেই। গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশে যাত্রীবেশে কোনও অপরাধী আরমানের গাড়িতে উঠেছিল। গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশে তাকে হত্যা করা হতে পারে। এমনও হতে পারে গাড়িতে একজন যাত্রী নয়, কয়েকজন যাত্রী ছিল। হত্যার পর গাড়িটি না নিতে পেরে অপরাধীরা পালিয়েও যেতে পারে। কিন্তু, চার দিনেও পুলিশ কোনও আসামিকে খুঁজে বের করতে পারেনি। এদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলন্ত গাড়িটি ১৬ নম্বর রোড দিয়ে এসে ৫২ নম্বর বাড়ির দেয়ালে ধাক্কা খায়। কিন্তু, সেখানে কাউকে যাতায়াত বা পালাতে দেখা যায়নি। এছাড়াও ফুটেজে হামলা বা খুনের কোনও দৃশ্য দেখা যায়নি। ঘটনাস্থলে গাড়ির ভেতরে পেছনের সিটে এক জোড়া স্যান্ডেল পাওয়া গেছে। তবে, গাড়িতে সর্বশেষ যে যাত্রী ছিল, তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। 

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ছিনতাইজনিত কারণে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। এতে ওই গাড়িতে থাকা ওই যাত্রীও জড়িত থাকতে পারে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (উত্তর) বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মশিউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের টিম ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে। আশা করছি, দ্রুতই এই হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।’

নিহত উবার চালক আরমানের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চার দিনেও হত্যাকাণ্ডের কারণ বের করতে পারেনি পুলিশ। আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে প্রতিদিনই পুলিশ আশ্বাস দিচ্ছে, কিন্তু কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আমার ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। স্বামীর আয়ে আমার সংসার চলতো। মিরপুরের একটি বাসায় ভাড়া থাকি। এখন কীভাবে বাসা ভাড়া দেবো, আর সংসার কীভাবে চালাবো। আমি খুব বিপদে আছি।’

রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘এত নিরাপত্তার পরও আমার স্বামী খুন হলো। কিন্তু, অপরাধীদের এখনও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারছে না। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। নির্মমভাবে যারা আরমানকে হত্যা করেছে, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি করছি।’

এদিকে রবিবার (১৬ জুন) উবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও খবর...
উত্তরায় উবার চালক হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ

 

/এসজেএ/এনআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ