মাদারীপুরের কলেজছাত্র ওয়াহিদুজ্জামান হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:৫৫, জুন ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১২, জুন ১৯, ২০১৯

আদালত প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামিমাদারীপুরের নাজিমউদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের এমএ শেষ বর্ষ ও মাদারীপুর বঙ্গবন্ধু ল কলেজের ছাত্র ওয়াহিদুজ্জামান হত্যা মামলায় চার জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেকের ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৯ জুন) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মনির কামাল এ রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মেহেদী হাছান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বুধবার সকালে আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণা শেষে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো—লেনিন ব্যাপারী, শাহাবুদ্দিন দর্জি, রেজাউল ব্যাপারী (পলাতক) ও এমএম ফয়সাল আহমেদ। আসামি মহিউদ্দিন দর্জির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাকে খালাস দিয়েছেন। বিচার চলার সময় আসামি সেলিম মারা যাওয়ায় আগেই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আসামি মহিউদ্দিন, লেনিন, শাহাবুদ্দিন ও ফয়সাল ওয়াহিদুজ্জামানের বন্ধু। লেনিনের চাচা রেজাউল ইতালিতে নিয়ে মহিউদ্দিনকে চাকরি দেয়। পরে ওয়াহিদুজ্জামান ইতালি যাওয়ার জন্য রেজাউলকে ১০ লাখ টাকা দেন। কিন্তু ওয়াহিদুজ্জামানকে বিদেশে নিতে না পারায় রেজাউল তাকে টাকা ফিরিয়ে দেবে বলে জানায়। এরইমধ্যে ওয়াহিদুজ্জামান পারিবারিকভাবে তিথি নামে এক মেয়েকে বিয়ে করেন। তিথির সঙ্গে রেজাউলের প্রেম ছিল। ফলে রেজাউল ক্ষুব্ধ হয় এবং ওয়াহিদুজ্জামানকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। ইতালি থেকে সে ফোনে তার ভাতিজা লেনিন, মহিউদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, সেলিম ও ফয়সালকে হত্যার পরিকল্পনার কথা জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ মহিউদ্দিন, শাহাবুদ্দিন, সেলিম ও লেনিন মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার কাশিমপুর চর দিঘালিয়া শাহ ব্যাপারীর ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ওয়াহিদুজ্জামানকে হত্যা করে।
২০১৪ সালের ২২ নভেম্বর ডিবির পুলিশ পরিদর্শক মদন মোহন বণিক মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
পরে দায় স্বীকার করে আসামি লেনিন ব্যাপারী, শাহাবুদ্দিন দর্জি ও সেলিম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

 

/টিএইচ/আইএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ